সৌদিতে নিহত ২ বাংলাদেশির একজন বগুড়ার, আরেকজন কুমিল্লার
সৌদি আরবের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনি গোষ্ঠী হুতিদের হামলায় যে দুজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, তাদের একজনের বাড়ি বগুড়ায়; আরেকজনের কুমিল্লায়।
জার্নাল ডেস্কসৌদি আরবের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনি গোষ্ঠী হুতিদের হামলায় যে দুজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, তাদের একজনের বাড়ি বগুড়ায়; আরেকজনের কুমিল্লায়। সৌদি কর্তৃপক্ষ ও নিহতদের পাসপোর্ট মিলিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়ার কথা রোববার জানিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
নিহত মো. শাহেদ আহম্মেদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর থতানার মাদলা গ্রামে। তার বাবার নাম মো. রফিকুল ইসলাম এবং মায়ের নাম মোছা. শাহেরা বেগম। মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি নামে নিহত আরেকজনের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তিনি মোহাম্মদ উল্লাহ ও জাহানারা বেগমের সন্তান।
শনিবারের ওই হামলায় এখন পর্যন্ত এই দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। হুতিরা এ বছরের গ্রীষ্মে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যে হামলা শুরু করেছে, তারই অংশ হিসেবে বিমানবন্দরে হামলা হওয়ার কথা লিখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বলেছে, নিহতদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি, চারজন সৌদি নাগরিক এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, আহত হয়েছেন ৩০৯ জন।
গত এক সপ্তাহের মধ্যে খালিদ বিমানবন্দর আরও দুবার হামলার শিকার হয়। তাতে চারজন নিহত ও আরও অনেকে আহত হয়। একটি উড়োজাহাজও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগের মতো শনিবারের হামলারও কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সংঘাত বাদ দিয়ে কূটনীতি ও সংলাপের পথে হাঁটার আহ্বানও জানিয়েছে ঢাকা।
এর আগে ৪ অক্টোবর সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আল খুরাইস এলাকায় আরামকোর একটি স্থাপনায় হুতিদের হামলায় এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছিলেন।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে মোট ১৪ জন বাংলাদেশিকে নিহত হওয়ার কথা রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তবে, এর মধ্যে নতুন দুজন অন্তর্ভুক্ত কিনা, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
নিহতদের মরদেহ ফেরত আনার বিষয়ে এক প্রশ্নে বলেছেন, এখন পর্যন্ত যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে তাদের সবাইকে ফেরত এনেছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এই দুজনের মরদেহ শিগগির দেশে আনার পদক্ষেপ নেবে সরকার। এইমাত্র ঘটনাটা ঘটেছে, আমরা অবশ্যই সৌদি সরকারের সঙ্গে কাজ করে… এবং অনেক সময় দেখা যায় যে, আমাদের বাংলাদেশি ভাইয়েরা ওখানে বিভিন্ন কোম্পানিতে তারা চাকরি করেন, তো সেই কোম্পানির মালিকের সঙ্গে কথা বলার কথা বলতে হয়।
শামা ওবায়েদ বলেন, সাধারণত প্রবাসী কর্মীদের মরদেহ দেশে ফেরত আনার সব ব্যয় সরকার বহন করে। এ ব্যাপারে কোনো ব্যত্যয় হবে না।
আহত ৪ বাংলাদেশি আইসিইউতে
বাদশা খালিদ বিমানবন্দরে হামলায় আহত তিন শতাধিক ব্যক্তির মধ্যে ৪ জন বাংলাদেশির হাসপাতালের হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
তবে ওই ঘটনায় মোট কতজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন, তার তথ্য সংগ্রহে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রিয়াদে বাংলাদেশ মিশনের কাজ চলার কথা বলেছেন তিনি।
রোববার দুপুরের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হামলাটি ‘অত্যন্ত মারাত্মক ছিল’।
‘এ ঘটনায় তাদের মোট মৃত্যুর সংখ্যা তারা বলেছে এখন পর্যন্ত ১২ জন। দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের দুজন বাংলাদেশিও এই হামলায় নিহত হয়েছেন। এবং চারজন বাংলাদেশি এখন পর্যন্ত আমরা জানতে পেরেছি যে কিং খালিদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন।’
তিনি বলেন, আমরা এই চারজন বাংলাদেশির পরিচয় জানার চেষ্টা করছি, কারণ তাদের পরিচয় জানতে সময় লাগছে। আমাদের মিশন সেখানে সৌদি সরকারের সাথে কাজ করছে, যেহেতু সেখানে একটা যুদ্ধাবস্থায় বলা যায়, সেক্ষেত্রে সেখানে অনেক জাতীয়তার মানুষই আছেন যারা আহত হয়েছেন এবং নিহত হয়েছেন।
সাধারণ মানুষের প্রাণ হারানোর এসব ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখের বিষয়’ হিসাবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, আমরা আশা করব যে, এই পর্যায়ে এই যুদ্ধ বন্ধ হবে, এই হামলা বন্ধ হবে। এবং এই যুদ্ধের নামে যে নিরীহ মানুষেরা মারা যাচ্ছেন, তারা মৃত্যুবরণ করছেন, তারা পরিবার ছেড়ে, পরিবারের সকলকে ছেড়ে তারা জীবিকার অন্বেষণে তারা বিদেশে যায়, বিদেশে কাজ করে, কষ্ট করে টাকা উপার্জন করে, আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা তারা সেখানে থাকে, কাজ করে—তো এই ধরনের মৃত্যু আসলে আমরা মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম
