স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় এক ট্রাকচালক ও দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া একটি যাত্রীবাহী বাসের ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
আজ বুধবার দুপুরে এবং মঙ্গলবার রাতে উপজেলার আঠারমাইল এলাকায় দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
নিহত ট্রাকচালকের নাম জিন্নাত মিয়া (৩৫)। তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলার মোক্তারপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ‘ক্রাউন সিমেন্ট’ কোম্পানির ট্রাকচালক ছিলেন। অন্য দুই নিহত হলেন ডুমুরিয়া উপজেলার নরনিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল বারিক গাজীর ছেলে আব্দুর রউফ গাজী (৪৩) এবং একই গ্রামের আব্দুল মালেক সরদারের ছেলে ইউনুস সরদার (২৫)।
তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খর্ণিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্সি পারভেজ আহমেদ।
হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে আঠারমাইল এলাকায় ক্রাউন সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রাকের সঙ্গে খুলনা থেকে সাতক্ষীরাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ট্রাকটি সাতক্ষীরায় সিমেন্ট নামিয়ে খুলনায় ফিরছিল। সংঘর্ষের পর ট্রাকটি সড়কের পাশে এবং বাসটি পাশের একটি খাদের পানিতে ছিটকে পড়ে। এতে ট্রাকচালক জিন্নাত মিয়াসহ বাসের কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
গুরুতর আহত জিন্নাত মিয়াকে উদ্ধার করে ডুমুরিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তাসমিয়া আক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের দাবি, বাসটিতে যাত্রী পূর্ণ ছিল। দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের সাতক্ষীরার তালা ও সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে খর্ণিয়া হাইওয়ে থানার ওসি মুন্সি পারভেজ আহমেদ বলেন, ‘আমরা বাসের কোনো আহত যাত্রী পাইনি। তবে বাসটি রাস্তার পাশে খাদের পানিতে পড়ে রয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বাসের নিচে কোনো যাত্রী থাকলেও থাকতে পারে। বাসটি উদ্ধারের পর এ ব্যাপারে বলতে পারব।’
এর আগে মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে একই এলাকায় ইমাদ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুর রউফ গাজী ও ইউনুস সরদার নিহত হন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রউফ গাজী ডুমুরিয়ার চুকনগর বাজারের মাছের আড়তদার ছিলেন। মঙ্গলবার তার আড়তে মাছ বিক্রি করতে আসা কয়েকজন মাছচাষির বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে রাত ৮টার দিকে মোটরসাইকেলে চুকনগর বাজারে যান। তার সঙ্গে ছিলেন কর্মচারী ইউনুস। টাকা পরিশোধ শেষে রাত দেড়টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আঠারমাইল বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সাতক্ষীরাগামী ইমাদ পরিবহনের একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি ছিটকে প্রায় ১৫ ফুট দূরে সড়কে পড়ে যায়। দুই আরোহী মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
ওসি মুন্সি পারভেজ আহমেদ জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত দুইজনের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
