যশোরে ডেঙ্গুর বিস্তার থামছে না। চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৫৩ জনে। প্রাণ গেছে দুজনের। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৭১৩ জন। এখনো হাসপাতালে ভর্তি ১০০ জন। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে ডেঙ্গুর এই উদ্বেগজনক চিত্র। বছরের শেষ প্রান্তে এসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার ছুঁইছুঁই হওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর প্রতিরোধের গুরুত্ব সামনে এসেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৩ জন। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। নতুন রোগীদের সবাই সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অর্থাৎ, এক দিনে নতুন করে দুই ডজনের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না।
জেলাভিত্তিক নয়, উপজেলাভিত্তিক হিসাবেও আক্রান্তের চিত্রে রয়েছে বড় ব্যবধান। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত অভয়নগরে। চলতি বছরে এ উপজেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৭০৭ জন। তাদের মধ্যে ৬৭৮ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ২৫ জন। কেশবপুরে আক্রান্ত হয়েছেন ২০৯ জন। বাঘারপাড়া ও শার্শায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৬৮ জন করে। মনিরামপুরে ১২৪ এবং ঝিকরগাছায় ৬৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। চৌগাছায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের হিসাবেও ডেঙ্গু আক্রান্তের উল্লেখযোগ্য চাপ দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরে এ হাসপাতালে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩৭৪ জন। চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৪৫ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ২৭ জন। প্রতিবেদনে এ হাসপাতালের হিসাবে ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যুর তথ্যও উল্লেখ রয়েছে।
সব মিলিয়ে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৩। এর মধ্যে ১ হাজার ৭১৩ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও এখনো চিকিৎসাধীন ১০০ জন। আক্রান্তের এই সংখ্যা ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসাসেবার ওপর নির্ভর করলে চলবে না, রোগের বিস্তার ঠেকাতে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও আশপাশের এলাকায় কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণও জরুরি।
