চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে রাত দেড়টার দিকে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে মুছাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব জাকারিয়া তসলিম ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে। আহত ব্যবসায়ী সাহাব উদ্দিনকে (৪০) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর হাত, মাথা, বুক ও পায়ের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লেগেছে। জমি দখল, চাঁদাবাজি, হামলা ও সালিশের নামে হয়রানির অভিযোগে এর আগেও আলোচনায় এসেছিলেন এই যুবদল নেতা।
গত ২১ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সন্দ্বীপ উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কেরানী মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জাকারিয়া তসলিমের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি সাহাব উদ্দিনের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে প্রায় মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে ফেলে রেখে চলে যান হামলাকারীরা। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে সেলাই দিতে হয়েছে।
আহত সাহাব উদ্দিন জানান, হামলায় তাঁর হাত, মাথা, বুক ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লেগেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর পরিবার মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, হামলায় রিদোয়ান, তাহের, মাহফুজ ও সাহাবুদ্দীন নামের কয়েকজনও অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদার বলেন, সাহাব উদ্দিন নামের একজনের ওপর হামলার ঘটনা তিনি শুনেছেন। দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ঘটনায় কেউ থানায় মামলা করতে আসেননি। মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে জাকারিয়া তসলিমের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজনের অভিযোগ, জাকারিয়া তসলিম ও তাঁর অনুসারীরা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে মুছাপুর ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তার করছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে এর আগে জমি দখল, চাঁদাবাজি, হামলা ও সালিশের নামে হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল। অনুসারীদের ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না বলেও দাবি স্থানীয়দের।
মুছাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. গিয়াস উদ্দিন এর আগে তাঁর পৈতৃক জমিতে রাতের আঁধারে মাটি ভরাট করে চলাচলের রাস্তা তৈরির অভিযোগে জাকারিয়া তসলিমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সন্দ্বীপ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
গিয়াস উদ্দিনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর রাতে তাঁর প্রায় ২০ কড়া জমিতে মাটি ভরাট করে রাস্তা তৈরি করা হয়। এ কাজে প্রতিবাদ জানালে তাঁকে খুন-জখমের হুমকি দেওয়া হয়।
এ ছাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুর নবী হৃদয়ও জাকারিয়া তসলিমের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে দুই দফা হামলার অভিযোগ তুলেছিলেন। মুছাপুরের নিকাহ রেজিস্ট্রার কাজী আব্দুর রহমানের বাড়িতে হামলা ও দখলচেষ্টার অভিযোগও রয়েছে জাকারিয়া তসলিম ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে এর আগে জাকারিয়া তসলিম বলেছিলেন, তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং অভিযোগগুলো মিথ্যা। তবে এবার ব্যবসায়ী সাহাব উদ্দিনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
