Published on
:
2 min read
এই সময়: ইএম বাইপাসের কাদাপাড়া মোড় থেকে বেলেঘাটা ক্রসিং। মিনিট দশেক লাগার কথা। সেখানে লেগে যাচ্ছে আধঘণ্টারও বেশি সময়। ধর্মতলা থেকে রাসবিহারী হয়ে কসবা। বাসে যেতে সময় লাগে ঘণ্টাখানেক। পুজোর মরশুমে ২ ঘণ্টা পেরিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অটো করে কাটা রুটে গন্তব্যে পৌঁছতেও নাস্তানাবুদ হচ্ছেন যাত্রীদের একাংশ।
শ্যামবাজার থেকে হাতিবাগান, কলেজ স্কোয়ার থেকে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, গড়িয়াহাট থেকে রাসবিহারী — জনস্রোতে গতি হারাচ্ছে শহর। বড় মণ্ডপের সামনে ভিড় জমতেই গাড়ির লম্বা লাইন সমস্যা বাড়াচ্ছে গভীর রাত পর্যন্ত। কোথাও পথচারীদের চাপে থমকে যাচ্ছে যান চলাচল। কোথাও রুট পরিবর্তন করে দেওয়ার পরেও বিকল্প পথে বাড়ছে গাড়ির চাপ। পুজোর কলকাতায় যানজটের এই গোলকধাঁধা সামলানোই এখন লালবাজারের কাছে বড় পরীক্ষা।
উত্তর থেকে দক্ষিণ। শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানজটের নেপথ্যে বিভিন্ন কারণ রয়েছে বলে পুলিশের যুক্তি। সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার থেকে কলেজ স্কোয়ার, হাতিবাগান, একডালিয়া এভারগ্রিন, কাশীবোস লেন, সুরুচি সংঘ ও সিংহি পার্কের মতো জনপ্রিয় পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়লে আশপাশের রাস্তায় গাড়ির গতি কমছে। তার সঙ্গে যোগ হচ্ছে শেষ মুহূর্তে পুজোর কেনাকাটার ভিড়। একই সঙ্গে অফিস ফেরত মানুষের ভিড় এবং জেলা থেকে আসা ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ। ফলে একই সময়ে শহরের রাস্তায় বাড়ছে গাড়ি ও পথচারীর চাপ। কলকাতা পুলিশের ডিসি (ট্র্যাফিক) সম্ভব জৈন বলেন, ‘এই সময়ে প্রচুর মানুষ কলকাতায় আসেন। ট্র্যাফিকের ৬ হাজার পুলিশ তো রয়েছে, তার সঙ্গে অতিরিক্ত আরও ৬ হাজার কর্মী ট্র্যাফিক সামলানোর কাজে লাগানো হচ্ছে। কন্ট্রোল রুম থেকেও নজর রাখছি আমরা। যেখানেই যানজট হচ্ছে, সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত টিমও চলে যাচ্ছে।’
পুলিশের দাবি, ভিড় সামলাতে ১৩ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত একাধিক পুজোমণ্ডপ সংলগ্ন রাস্তায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। স্ট্র্যান্ড রোড, সেন্ট জর্জেস গেট রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় একমুখী যান চলাচলের ব্যবস্থাও রয়েছে। মণ্ডপের সামনে গাড়ি দাঁড়াতে না দিয়ে অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে যানবাহন। এ বছর কলকাতায় ৪০০-রও বেশি পুজোর সংখ্যা বেড়ে মোট পুজো হচ্ছে ২,৯৮১টি। কিন্তু, সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্র্যাফিক ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেওয়া শুরু করেছেন।
পুলিশের পরামর্শ, মণ্ডপের কাছে ব্যক্তিগত গাড়ি না নিয়ে গণপরিবহণ ব্যবহার করুন। ইতিমধ্যেই যাঁরা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছেন বা ট্র্যাফিক নিয়ম মানছেন না, তাঁদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ট্রিপল রাইডিং, মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গাড়ি চালানো, হেলমেট ছাড়া বাইক নিয়ে বেরোনো, পার্কিং সহ নানা অভিযোগে ইতিমধ্যেই ৩৩৪ জনের বিরুদ্ধে কেস করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, যানজটে মোকাবিলায় ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত বাহিনী, ব্যারিকেড, প্রয়োজনে যান চলাচলের গতিপথ বদল এবং বিকল গাড়ি দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জরুরি পরিষেবার গাড়ি যাতে ভিড়ে আটকে না পড়ে, সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে
