শরতের বিদায়বেলায় প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে এসেছে ভোরের কুয়াশা, ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশির আর হিমেল বাতাস। দিনের বেলায় রোদের তীব্রতা থাকলেও ভোর ও সন্ধ্যায় অনুভূত হচ্ছে শীতের আমেজ।
আবহাওয়ার এমন পরিবর্তনের সঙ্গে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সর্দি, জ্বর, কাশি ও গলাব্যথাসহ বিভিন্ন মৌসুমি অসুস্থতায় আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে পরিবারগুলোর মধ্যে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৪৫০ থেকে ৫০০ জন রোগী অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে আসছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ রোগী জ্বর, সর্দি, কাশি ও গলাব্যথাসহ ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন উপসর্গে ভুগছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। তবে এসব উপসর্গের মধ্যে কোন রোগে কতজন আক্রান্ত হচ্ছেন, তার পৃথক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবহাওয়া পরিবর্তনের এ সময়ে অনেকের প্রথমে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও গলাব্যথা শুরু হচ্ছে। পরে দেখা দিচ্ছে জ্বর, কাশি, মাথাব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা। অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের খাবারে অনীহা দেখা দেওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়ছেন অভিভাবকেরা।
শওগুন খোলা গ্রামের বাসিন্দা মাসুমা আক্তার (৩৪) বলেন, কয়েক দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের সর্দি-কাশি ও জ্বর দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে বেশি চিন্তায় আছি। জ্বর হলে তারা স্বাভাবিকভাবে খেতে চায় না। অন্যদিকে গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের হরিপুর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আওয়াল (৫৮) বলেন, “আবহাওয়া পরিবর্তনের এ সময়ে সর্দি-জ্বরসহ নানা সমস্যায় ভুগছি। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হাসপাতালে এসেছি।
নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নিলয় দাস বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৪৫০ থেকে ৫০০ জন রোগী অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। তাঁদের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ রোগী জ্বর, সর্দি, কাশি ও গলাব্যথাসহ ঠান্ডাজনিত উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
চিকিৎসক ডা. সাব্বির হোসেন বলেন, সর্দি-জ্বরের উপসর্গ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া, বেশি করে তরল খাবার পান করা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো জটিল উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন থেকেও বিরত থাকতে হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের এ সময়ে মৌসুমি অসুস্থতা থেকে সুরক্ষিত থাকতে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অসুস্থ হলে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের পরামর্শ, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ও নাক ঢেকে রাখা এবং অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের সংস্পর্শে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যের প্রতি বাড়তি নজর দিতে হবে।
প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে নবাবগঞ্জে ঠান্ডাজনিত উপসর্গ নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় স্বাস্থ্যসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে মৌসুমি অসুস্থতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
