কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানখেত থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলার আলোচিত চরিত্র কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে ঘিরে কক্সবাজারে নানা নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে কুমিল্লায় না এনে পুনরায় কক্সবাজার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, রোববার রাতে শহরের কলাতলী এলাকা থেকে রাজুকে আটক করে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ। পরে সোমবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কুমিল্লা জেলা ডিবির একটি দল অধিযাচনপত্র দিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিকেলে তাকে আবার কক্সবাজার মডেল থানায় ফেরত দিয়ে ডিবি টিম চলে যায়। এরপর সন্ধ্যায় ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রাজুকে আদালতে সোপর্দ করে কক্সবাজার থানা পুলিশ।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, তদন্তের স্বার্থে কিছু তথ্য ও হোটেল-সংক্রান্ত বিষয় যাচাই করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। প্রক্রিয়া শেষে তাকে পুনরায় স্থানীয় পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অভিযান) অহিদুর রহমান জানান, কুমিল্লা ডিবি রাজুকে আবার থানায় ফেরত দেওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। নিহতের পরিবার চাইলে তার বিরুদ্ধে আইনগত অভিযোগ দায়ের করতে পারবে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, গত ৬ অক্টোবর তাজমিনকে নিয়ে রাজু কক্সবাজার শহরের কলাতলীর একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। সেখানে তাজমিনকে নিজের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন রাজু। পরদিন সকালে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। ফেসবুকের পরিচয়ের সূত্র ধরে নিখোঁজ হওয়ার পর তাজমিন কক্সবাজারে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তাকে বাসে তুলে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জেএইচআর
