
২৫ বছর ধরে দুই পা নেই, চার কন্যাসন্তানকে নিয়ে অজুদ মিয়ার বেঁচে থাকার আকুতি
মাসুদ রানা, কুমিল্লা।
জীবন কখনো কখনো মানুষকে এমন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়, যেখানে প্রতিটি দিনই হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার নতুন এক সংগ্রাম। অভাব-অনটন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আর চরম অসহায়ত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করে প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলছেন কুমিল্লার লালমাইয়ের অজুদ মিয়া।
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভূলইন উত্তর ইউনিয়নের বেতাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা অজুদ মিয়া। প্রায় ২৫ বছর আগে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন নিজের দুটি পা। সেই থেকে চিরতরে হারিয়ে যায় তাঁর স্বাভাবিক চলাফেরার সক্ষমতা। একসময় সাধারণ মানুষের মতো সুন্দর জীবন গড়ার স্বপ্ন থাকলেও, একটি দুর্ঘটনাই মুহূর্তের মধ্যে বদলে দেয় তাঁর জীবনের পুরো বাস্তবতা।
পরিবার মানেই মানুষের নির্ভরতা ও বেঁচে থাকার প্রেরণা। অজুদ মিয়ার সংসারেও রয়েছে চার কন্যাসন্তান। সন্তানদের মুখে দুবেলা ভাত তুলে দেওয়া আর তাদের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখেন এই বাবা। কিন্তু শরীর চললেও পা না থাকায় সংসারের নিত্যদিনের চাহিদা মেটাতে তাঁকে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে।
প্রতিবন্ধী হিসেবে যে সামান্য সরকারি ভাতা পান, তা দিয়ে এই অগ্নিমূল্যের বাজারে চার মেয়ে ও পরিবার নিয়ে দিন চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাঁকে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) কোলের ছোট্ট মেয়েটিকে নিয়ে নিজের প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা কবে পাবেন—তা জানতে লালমাই উপজেলা পরিষদে ছুটে আসেন অজুদ মিয়া। কোলের শিশুর নিষ্পাপ মুখ আর বাবার চোখের অসহায়ত্ব যেন সেখানে উপস্থিত সবাইকে স্পর্শ করে যায়।
অজুদ মিয়া ও তাঁর পরিবারের এই কঠিন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র, স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের বিত্তবানদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আকুল আবেদন জানানো হয়েছে। একটু সহানুভূতি ও সামান্য আর্থিক সহায়তাই পারে অসহায় এই মানুষটিকে পরিবারসহ স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা দিতে।
ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা
ট্যাগ: বৃহত্তর কুমিল্লা আন্তর্জাতিক রাজনীতি
