গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন মা। তাঁর আরোগ্য কামনা করে দেবাদিদেব মহাদেবের কাছে মানত করেছিলেন বিহারের এক তরুণ। দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ এবং চারধাম দর্শনের প্রতিজ্ঞা ছিল তাঁর। মা সুস্থ হতে শুরু করায় মার্চ মাস থেকে সেই যাত্রা শুরু করেছিলেন তরুণ। তবে কোনও যানবাহন নয়। নিজের দুই পা সম্বল করেই দীর্ঘ এই যাত্রা শুরু করেছেন তিনি।
সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, তরুণের নাম মনু মেটুরবালা। বয়স মাত্র ১৯। আরারিয়া জেলার বাসিন্দা তিনি। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮০০০ কিলোমিটার সফর করেছেন তিনি। মানত পূরণের জন্য প্রতি দিন প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ দৌড়ে অতিক্রম করেন মনু। এখনও পর্যন্ত ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে পাঁচটি দর্শন করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে, কোন কোন জ্যোতির্লিঙ্গ তিনি দর্শন করেছেন, সে বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইনস্টাগ্রামে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁর এই যাত্রার নানা ভিডিয়ো ভাগ করে নিয়েছেন মনু। যদিও ভিডিয়োগুলির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে মহারাষ্ট্রের মানুষজন ভালবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন তাঁকে। কাঁধে চাপিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাঁকে।
কয়েক কোটি বার দেখা হয়েছে ভিডিয়োগুলি। মনুকে ভালবাসায় ভরিয়ে দিয়েছেন সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারীরা। মায়ের জন্য তাঁর এই কাজকে প্রশংসায় ভরিয়েছেন সকলে। অনেকেই জানতে চেয়েছেন যে তাঁর মা কী অসুস্থতায় ভুগছিলেন এবং এখন তিনি কেমন আছেন।
মনুর এই কঠিন যাত্রা দেখে তাঁকে ‘রামায়ণ’-এর শ্রবণকুমারের সঙ্গে তুলনা করেছেন কেউ কেউ। তিনি ছিলেন তপস্বী দম্পতি শান্তনু এবং মলয়ার পুত্র। তাঁরা দু’জনেই ছিলেন অন্ধ। মা-বাবার সেবায় জীবন উৎসর্গ করেন শ্রবণ কুমার। সে কারণে ভারতীয় ঐতিহ্যে পিতা-মাতার প্রতি ভক্তির জন্য স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন তিনি।
