Published on
:
1 min read
বিশ্বদেব ভট্টাচার্য
তখনও ভোরের আলো ফোটেনি। সপ্তমীতে সারারাত পুজোমণ্ডপ পাহারা দিয়ে একটু বিশ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সালানপুর থানার পুলিশকর্মীরা। ঘড়িতে তখন সাড়ে পাঁচটা। হঠাৎ বেজে উঠল ফোন।
অচেনা নম্বর। ওপার থেকে এক ব্যক্তি জানালেন, দেন্দুয়ার রামডি কালীমন্দিরের পিছনে ঝোপের কাছ থেকে কান্নার আওয়াজ আসছে। খবর পেয়েই আইসি বিশ্বজিৎ মণ্ডল পুলিশের দল পাঠালেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে পুলিশ পৌঁছে গেল মন্দিরের পিছনে।
সেখানে যা দেখলেন, তাতে থমকে গেলেন সবাই। মাটিতে পড়ে ঠান্ডায় থরথর করে কাঁপছে এক সদ্যোজাত কন্যা। নাড়ি তখনও কাটা অবস্থায়। পুলিশের অনুমান, জন্মের দেড়-দুই ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছিল।
আর দেরি করেননি কেউ। স্থানীয় মহিলাদের সাহায্যে শিশুটিকে কাপড়ে মুড়ে গাড়িতে তোলা হলো। গন্তব্য পিঠাকিয়ারি গ্রামীণ হাসপাতাল। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক তন্ময় মণ্ডলের নির্দেশে সেখানে তখনই শুরু হলো চিকিৎসা। চিকিৎসক আর নার্সদের যত্নে ধীরে ধীরে সাড়া দিতে লাগল শিশুটি। বিএমওএইচ জানান, প্রয়োজনীয় টিকাও দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু তখন সে খিদেয় কাঁদছে। নার্সিং কর্মীরা তাই হাসপাতালে ভর্তি সদ্য মা হওয়া মহিলাদের কাছে অনুরোধ জানালেন, কেউ কি একরত্তিকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন? সেই ডাকে এগিয়ে এলেন এক অচেনা মা। নিজের বুকের দুধ খাইয়ে শান্ত করলেন অনাথ শিশুটিকে। ভিড়ের মধ্য থেকে এক প্রত্যক্ষদর্শী বললেন, ‘ও তো একা নয়, আজ পুরো হাসপাতাল ওর মা!’
প্রাথমিক চিকিৎসার পরে শিশুটির প্রাণের ঝুঁকি কাটে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পাঠানো হয় আসানসোল জেলা হাসপাতালে। সালানপুর থানা খবর দিয়েছে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিকে (সিডব্লিউসি)। কমিটির সদস্যেরা ইতিমধ্যেই হাসপাতালে পৌঁছেছেন। তবে, কে বা কারা শিশুটিকে ফেলে গিয়েছিল, তা এখনও জানা যায়নি।
