Published on
:
2 min read
পার্থ দত্ত
বয়স ১৭। বিদেশ সফর ৮। আন্তর্জাতিক গোলের সংখ্যা ৭।
এই পরিসংখ্যান প্রীতিকা বর্মণের। ভারতের অনূর্ধ্ব ১৭ মেয়েদের টিমের অন্যতম সেরা ফুটবলার। তাঁর সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব পরপর দু'বার তিনি দেশকে তুললেন অনূর্ধ্ব ১৭ এশিয়ান কাপের মূলপর্বে। মালয়েশিয়ার সেলাংয়ে গ্রুপ লিগের বাছাই পর্বের শীর্ষে থেকে ভারত উঠেছে এশিয়ান কাপের মূলপর্বে। ভারত হারিয়েছে ইরাক, সিরিয়া ও মালয়েশিয়াকে। ইরাক ও মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে গোল আছে দ্রুতগতির রাইট উইঙ্গার ২২ নম্বর জার্সিধারী প্রীতিকার।
মঙ্গলবার ভোররাতেই কলকাতায় ফেরেন প্রীতিকা। সারাদিন শহরে কাটিয়ে রাতে রাধিকাপুর এক্সপ্রেস ধরে রওয়ানা হয়ে গেলেন উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে। সেখানকার হাতিয়াতেই বাড়ি এই কৃষক কন্যার। যাওয়ার আগে প্রীতিকার গলায় ঘরে ফেরার আকুতি। ক্লাস টেনের ছাত্রীর কথায়, 'গত বছর পুজোয় বাড়ি থাকতে পারিনি। জাতীয় শিবিরে ছিলাম। এ বার পুজোয় প্যান্ডেলে প্যান্ডেল ঘুরতে পারব ভেবেই আনন্দ হচ্ছে।' জাতীয় শিবিরে থাকলে খাওয়া–দাওয়া খুব মাপা। পুজোয় কী খাবেন? একগাল হেসে প্রীতিকার জবাব, 'অনেকদিন ফুচকা, মোমো আর আইসক্রিম খাইনি। পুজোয় এই তিনটে জিনিস খাব।' বিরিয়ানি, মিষ্টি নয় কেন? প্রীতিকার পাল্টা প্রশ্ন, 'অত টাকা কোথায় পাব?'
জীবন যে কীভাবে দ্রুত বদলে যায়, তার বড় প্রমাণ প্রীতিকা। বছর দেড়েক আগে বেঙ্গালুরুতে প্রথমবার জাতীয় শিবিরে তাঁকে পাঠানোর জন্য তাঁর বাবা কাশীনাথকে ধারদেনা করতে হয়েছিল। তবে জাতীয় শিবিরে থেকে খালি হাতে ফিরতে হয়নি প্রীতিকাকে।
ভারতীয় টিমে পাকা জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি পরপর টুর্নামেন্টে খেলে চলেছেন। গোলও পাচ্ছেন তিনি। এত বিদেশ সফর করে বাবা–মায়ের জন্য কী কিনলেন? প্রীতিকার গলায় অভাবের হাহাকার। 'অনেকেই বিদেশে মার্কেটিং করে। আমি যাই না। কারণ আমার হাতে তো কোনও টাকাই থাকে না।' যোগ করেন, 'আমাদের পাঁচ ভাইবোনের (দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছে) বিরাট সংসার। সেটা টানতে বাবা আগে চাষ করার পাশাপাশি টোটোও চালাত। তাই তার থেকে টাকা চাওয়ার কথা এখনও ভাবতেই পারি না।'
প্রীতিকা এ বার অবশ্য কিছু টাকা হাতে পাবেন। কারণ তিনি ইস্টবেঙ্গলে সই করেছেন। নভেম্বরের শুরুতেই ইস্টবেঙ্গল মেয়েদের এশিয়ান ক্লাব চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা শুরু করবে। প্রীতিকার কথায়, 'পুজোয় বাড়িতে কয়েকটা দিন ছুটি কাটিয়েই ক্লাব প্র্যাক্টিসে যোগ দিতে চাই। স্বপ্ন দেখছি, প্রিয় ক্লাবের লাল হলুদ জার্সি গায়ে তোলার।' প্রীতিকাকে ঘিরেও তো স্বপ্ন দেখছেন বাংলার ফুটবলপ্রেমীরা।