জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাদিহিতা থাকবে এবং মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত হবে। তরুণদের জিপিএ-৫ এর পেছনে দৌড়ানোর দিন শেষ। তরুণরা যদি তাদের মেধা এবং উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তিকে পজিটিভ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে ব্যবহার করতে পারে তাহলেই আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ পাবো।”
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের এলডি হলে ‘ফিউচার বাংলাদেশ’ আয়োজিত বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬ কনফারেন্সে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, “বাংলাদেশে যত বড় বড় আন্দোলন হয়েছে, তাতে নেতৃত্ব দিয়েছে তরুণরাই। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের অনেকেই তরুণ। তরুণরা সব সময় আন্দোলন করেছে সামাজিক মর্যাদা এবং সমতার সুযোগ রক্ষার জন্য।”
তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত ২০০৬ সালের পর থেকে বাংলাদেশ বিভিন্ন সূচকে পিছিয়ে পড়েছে। এই পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশকে আমাদের নতুন করে এগিয়ে নিতে হবে।”
উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য বিদেশে গেলেও তরুণদের দেশে ফিরে এসে আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্বের হাল ধরার আহ্বান জানান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি দুর্নীতি রোধ করার জন্য তরুণদের পরামর্শ দেন। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কীভাবে কাজ হয়, কীভাবে তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, তা দেখার জন্য তিনি তরুণদের সংসদের অধিবেশন দেখার পরামর্শ দেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, “আমাদের দ্বিমত বা ভিন্নমত থাকতে পারে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যখন কেউ দ্বিমত পোষণ করে, তখন তার যুক্তি বোঝার চেষ্টা করতে হবে।”
দুই দিনব্যাপী কনফারেন্সের প্রথম দিন ছিল শুক্রবার। কনফারেন্সে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা থেকে আসা দুই শতাধিক স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ তরুণ প্রতিনিধি অংশ নেন। কনফারেন্সের এই সেশনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা এবং মুখপাত্র মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডোলান্ড।
