প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ কিংবা তলপেটে ব্যথা—এসব মূত্রনালির সংক্রমণ বা ইউরিন ইনফেকশনের লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ সমস্যাকে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) বলা হয়। সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব। তবে অবহেলা করলে সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়ে গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে।
ইউরিন ইনফেকশনের লক্ষণ
মূত্রতন্ত্রের কিডনি, মূত্রনালি, ইউরেটার কিংবা মূত্রথলির কোনো অংশে জীবাণুর সংক্রমণ হলে ইউরিন ইনফেকশন হয়। এর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব, হঠাৎ প্রস্রাবের বেগ, ঘোলাটে বা অস্বাভাবিক গন্ধযুক্ত প্রস্রাব এবং তলপেটে ব্যথা। কখনো প্রস্রাবের সঙ্গে রক্তও যেতে পারে।
সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়ে পড়লে জ্বর, কাঁপুনি, বমি বমি ভাব এবং কোমরের পেছনে পাঁজরের নিচে ব্যথা হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর, বমি, খাওয়ায় অনীহা ও খিটখিটে মেজাজ দেখা দিতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে মানসিক বিভ্রান্তিও দেখা দিতে পারে, যদিও এর অন্য কারণও থাকতে পারে।
উচ্চ জ্বর, কাঁপুনি, তীব্র কোমরব্যথা, প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা অস্বাভাবিক ঝিমুনি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
কেন হয় এই সংক্রমণ?
সাধারণত অন্ত্রে থাকা ব্যাকটেরিয়া মূত্রনালি দিয়ে মূত্রতন্ত্রে প্রবেশ করলে সংক্রমণ ঘটে। নারী-পুরুষ উভয়েরই এ রোগ হতে পারে, তবে নারীদের মূত্রনালি তুলনামূলক ছোট হওয়ায় তাঁদের ঝুঁকি বেশি।
পর্যাপ্ত পানি পান না করা, প্রস্রাব আটকে রাখা, কিডনিতে পাথর, মূত্রথলি পুরোপুরি খালি করতে না পারা, ডায়াবেটিস, গর্ভাবস্থা এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শারীরিক সম্পর্কের কারণেও সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়তে পারে। তবে ইউরিন ইনফেকশন নিজে ছোঁয়াচে রোগ নয়।
চিকিৎসা ও করণীয়
লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্রাব পরীক্ষা ও কালচার করানো হতে পারে। ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন। রোগের ধরন ও তীব্রতা অনুযায়ী ওষুধের মেয়াদ নির্ধারিত হয়। উপসর্গ কমে গেলেও চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।
পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, বিশ্রাম এবং তলপেটে হালকা গরম সেঁক অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে কিডনি বা হৃদ্রোগের কারণে পানি পানের সীমাবদ্ধতা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ মানতে হবে। চিকিৎসা শুরুর পরও দুই-তিন দিনের মধ্যে উন্নতি না হলে আবার চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।
প্রতিরোধে যা করবেন
ইউরিন ইনফেকশনের ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ:
নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং প্রস্রাবের বেগ চেপে রাখবেন না।
টয়লেট ব্যবহারের পর সামনে থেকে পেছনে পরিষ্কার করুন।
যৌনাঙ্গ পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন এবং প্রস্রাবের পর মূত্রথলি যথাসম্ভব খালি করুন।
যৌনসম্পর্কের পর প্রস্রাব করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
সুগন্ধিযুক্ত সাবান ও যৌনাঙ্গে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে এমন পণ্য এড়িয়ে চলুন।
বারবার সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে কারণ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে উপসর্গ অবহেলা করা উচিত নয়। সচেতনতা, সঠিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে ইউরিন ইনফেকশনের জটিলতা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
সূত্র: সহায়