স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
চট্টগ্রামে সাইবার অপরাধ তদন্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা বাড়াতে সাইবার পুলিশ সেন্টার চালু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ৫৯ কোটি ৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়েছে কেন্দ্রটির ভবন। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সাইবার অপরাধ তদন্ত, ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে এ কেন্দ্র ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
বুধবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম নগরীর দামপাড়ায় মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন।
সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘Safer Cyberspace for Digital Bangladesh: Enhancing National & Regional Digital Investigation Capability of Bangladesh Police’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) সহযোগিতায় কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
১০ তলা ভিত্তির ওপর চারতলা ভবন
প্রকল্পের আওতায় ১০ তলা ফাউন্ডেশনসহ চারতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। এর বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ৫৯ কোটি ৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।
এ প্রকল্পের আওতায় সিআইডি সদর দপ্তরের সাইবার পুলিশ সেন্টার ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের সক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার অপরাধ তদন্তে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
যেসব অপরাধ তদন্তে গুরুত্ব
সিআইডির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার বিস্তারের সঙ্গে অপরাধের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, অনলাইন প্রতারণা, হ্যাকিং, ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার এবং অনলাইনে উগ্রবাদী প্রচারণার মতো অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষায়িত তদন্ত সক্ষমতা প্রয়োজন।
নতুন কেন্দ্রের মাধ্যমে ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ, সাইবার হুমকি পর্যবেক্ষণ এবং জটিল আর্থিক প্রতারণা তদন্তে সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করছে সিআইডি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।
সিআইডির দাবি, চট্টগ্রামে কেন্দ্রটির কার্যক্রম শুরু হওয়ায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সাইবার অপরাধ তদন্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি সেবা আরও গতিশীল হবে।
