মেনোপজের সময় অনিয়মিত পিরিয়ড একটি সাধারণ ঘটনা। কিন্তু কারও কারও এর জটিলতা দেখা দেয়। সে জন্য নারীর অনিয়মিত পিরিয়ড কিংবা মাসিককে নিয়মে পরিণত করতে জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসকের পরামর্শের সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
কারণ চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২১-৩৫ দিনের মধ্যে পিরিয়ড হওয়াকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া হয়। এর চেয়ে কম বা বেশি হলে কিংবা প্রতি মাসে সময়ের ব্যাপক তারতম্য দেখা দিলে তাকে অনিয়মিত পিরিয়ড বলা হয়ে থাকে। আর এটি নিয়মিত করার জন্য প্রধান কিছু করণীয় বিষয় আছে, সেদিকে লক্ষ রাখা উচিত।
পিরিয়ড চক্রের দৈর্ঘ্য সাধারণত ২৮ দিন হয়। যদি এটি এক সপ্তাহের বেশি দেরিতে শুরু হয়, তবে তাকে অনিয়মিত বলা হয়। আর অনিয়মিত পিরিয়ডের জন্য অনেক ঘরোয়া প্রতিকার রয়েছে, যেগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে। অনিয়মিত পিরিয়ডকে ডাক্তারি ভাষায় অলিগোমেনোরিয়া বলা হয়, যা নারীর মধ্যে একটি সাধারণ সমস্যা।
আবার অনেক কিছুই এ সমস্যার কারণ হতে পারে। যেমন— ওজন হ্রাস বা বৃদ্ধি, অ্যানিমিয়া, মেনোপজ, থাইরয়েড, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, যকৃতের রোগ, যক্ষ্মা, গর্ভপাতসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যগত সমস্যা।
স্ট্রেস শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার প্রাথমিক কারণের মধ্যে একটি, যা মাসিকের অনিয়মকে ট্রিগার করে। যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন মানসিক চাপ উপশম করতে সাহায্য করে। আর মেডিটেশন শরীরে নিখুঁত হরমোনের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে পারে। এ দুটি ওষুধ ছাড়াই অনিয়মিত পিরিয়ড নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি।
আর এই জটিল সমস্যার সমাধানের একমাত্র উপায় হচ্ছে— নিয়মিত ব্যায়াম করা। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট। অর্থাৎ প্রতিদিন ৩০ মিনিট মাঝারি ধরনের শারীরিক ব্যায়াম করা উচিত।
গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে পাঁচ দিন ৩৫-৪০ মিনিট যোগব্যায়াম করলে হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকে এবং স্ট্রেস কমে যায়। তবে অতিরিক্ত মাত্রায় ভারি ব্যায়াম থেকে দূরে থাকুন। কারণ এটি পিরিয়ড আরও অনিয়মিত করতে পারে। মাসের এই সময়টা নারীর থেকে রেহাই নেই।
তবে দুর্ভাগ্যক্রমে পিরিয়ড নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা এখনো মানুষ সহজভাবে গ্রহণ করতে শেখেনি। অথচ পিরিয়ড কারও কারও জন্য যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। কারণ এর সঙ্গে কোমর ও পেটে ব্যথাও রয়েছে। যে কারণে মেয়েদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পিরিয়ড সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত।
লাইফস্টাইল ট্রিগার যেমন— ব্যায়াম, ধূমপান, অ্যালকোহল অপব্যবহার, ক্যাফেইন, ভ্রমণ, স্ট্রেস, ওষুধ এবং জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধও এ সমস্যায় অবদান রাখতে পারে।
কিছু ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে জেনে নিন, যা আপনাকে অনিয়মিত পিরিয়ড থেকে মুক্তি দিতে পারে—
কাঁচা পেঁপে
কাঁচা পেঁপে পিরিয়ডে বেশ উপকারী। এটি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয়। কারণ এটি জরায়ুতে পেশি তন্তুকে সংকুচিত করতে সাহায্য করে থাকে। কয়েক মাস নিয়মিত কাঁচা পেঁপের খেলে অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা দূর হবে। তবে পিরিয়ড চলাকালে এটি পান করা যাবে না।
হলুদ
হলুদকে সেরা ওষুধ হিসাবে বিবেচনা করা হয়, যা বেশ উষ্ণতাদায়ক। এটি পিরিয়ড নিয়ন্ত্রণ ও হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে। অ্যান্টিস্পাসমোডিক এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য মাসিকের ব্যথা উপশম করে। সে জন্য দুধ, মধু বা গুড়ের সঙ্গে এক-চতুর্থাংশ চা চামচ হলুদ খান। ভালো উপকার পাবেন।
আদা
আদা এক টেবিল চামচ ৫ মিনিটের জন্য ফুটিয়ে নিন। এরপর সামান্য মধু যোগ করুন। পানীয়টি দিনে তিনবার খাবারের পর পান করুন। মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রণ ও অনিয়মিত পিরিয়ড থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আদা ভীষণ কার্যকরী।
দারুচিনি
দারুচিনি শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, এটি মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শরীরে উষ্ণতা বজায় রাখে। এক গ্লাস গরম দুধ নিয়ে তাতে এক চা চামচ দারুচিনি গুঁড়া মিশিয়ে পান করুন। এটি অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।
জিরা
জিরায় স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। অনিয়মিত পিরিয়ডের চিকিৎসায় ভেজানো জিরা ব্যবহার করা যেতে পারে। ২ চামচ জিরা নিয়ে সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে জিরা ছেঁকে নিয়ে পানিটুকু পান করুন। পিরিয়ড নিয়মিত করার জন্য প্রতিদিন এই পানি পান করুন।
অ্যালোভেরা
অ্যালোভেরা হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এটি স্বাভাবিকভাবে অনিয়মিত পিরিয়ডের চিকিৎসা করতে সাহায্য করে। সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়ার জন্য একটি অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল বের করুন, এরপর এক চা চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালের নাস্তার আগে পান করুন। তবে আপনার পিরিয়ডের সময় খাবেন না।