আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে প্রথম শর্ত হলো, যারা আমরা বলছি দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে, সেই রাজনৈতিক নেতাদের আগে দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। অন্যথায় আমরা ব্যর্থ হব।
আজ বুধবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে শিক্ষক ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে সামলে রাখাটা আপনাদের জন্য কঠিন। সেই পথকে আরো বন্ধুর করে তুলেছে এইআই। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে এবং তাদের উপযোগী কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে সরিয়ে এনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের চাহিদা ও বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন হলে কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করাও গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, শিক্ষকরাও যদি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করেন কিংবা অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত হন, সেটিও কোনোভাবেই সহনীয় হবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
দুর্নীতি প্রতিরোধে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে প্রথমে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও নেতাকর্মীদের নিজেদের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। যারা দুর্নীতি বন্ধের কথা বলবেন, তাদের নিজেদের আচরণেও তার প্রতিফলন থাকতে হবে। অন্যথায় দুর্নীতি প্রতিরোধের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।
মতবিনিময় সভায় শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ এবং উপজেলার বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক ও বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
