ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি'অরের মঞ্চে কে হাসবেন শেষ হাসি, তা নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে বসতে যাচ্ছে তারকাখচিত এই আয়োজন। তার আগে বড় এক স্বীকৃতি অর্জন করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। স্প্যানিশ ক্রীড়া সাময়িকী মার্কার ‘১০০ মার্কা’ পুরস্কারে সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
বিগত মৌসুমে ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বিশ্বের সেরা ১০০ খেলোয়াড়ের তালিকা তৈরি করে মার্কা। এবার সেই তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছেন কেইন। মর্যাদাপূর্ণ এই স্বীকৃতি জয়ের পথে তিনি পেছনে ফেলেছেন বার্সেলোনার তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল এবং রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে।
বিজয়ী নির্ধারণে অংশ নেন বিশ্বজুড়ে পরিচিত সাংবাদিক, সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার ও অভিজ্ঞ কোচদের সমন্বয়ে গঠিত ২২৬ সদস্যের বিচারক প্যানেল। ১০০ জন মনোনীত খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে প্রত্যেক ভোটার নিজের পছন্দের সেরা ১৫ জনকে বেছে নেন। ভোটের পয়েন্টের হিসাবেই নির্ধারিত হয় চূড়ান্ত অবস্থান।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই লড়াইয়ে কেইনের সংগ্রহ ৩ হাজার ৯৬২ পয়েন্ট। মাত্র ২৫ পয়েন্টের ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় হয়েছেন ইয়ামাল, যার ঝুলিতে জমা পড়েছে ৩ হাজার ৯৩৭ পয়েন্ট। ৩ হাজার ৪৪০ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন এমবাপ্পে।
শীর্ষ তিনের বাইরে থাকা তারকাদের তালিকাও বেশ সমৃদ্ধ। তাদের মধ্যে রয়েছেন রদ্রি, খভিচা কোভারাতসখেলিয়া, লিওনেল মেসি, ফাবিয়ান রুইজ, মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে ও পাউ কুবারসি। এর আগে এই পুরস্কার জিতেছিলেন করিম বেনজেমা, আর্লিং হাল্যান্ড, ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও লামিনে ইয়ামালের মতো তারকারা।
কেইনের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে গোলের দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা। ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। এমন পারফরম্যান্স তাকে ব্যালন ডি'অরের অন্যতম আলোচিত দাবিদার হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তবে পুরস্কারের মঞ্চ যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে অপেক্ষার চাপ। বিজয়ীর নাম আগে ঘোষণা করা হলে ভালো হতো কি না, এমন প্রশ্নে নিজের পরিবারের কথা তুলে ধরেছেন কেইন।
হাস্যরসের সুরে কেইন বলেন, 'আমার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা সম্ভবত আগেভাগেই বিজয়ীর নাম জানতে বেশি আগ্রহী হতেন। কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা সবার জন্যই মানসিক চাপের বিষয়।'
