‘শ্যামাপ্রসাদের বাংলায়’ শ্যামাপ্রসাদ অনুগামী সরকার তৈরি হয়েছে বলে গত ৪ মে-র পর থেকে বার বার মনে করিয়ে দিচ্ছিলেন বিজেপি নেতারা। তবে সে সব এত দিন বলা হচ্ছিল শুধুই রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে। এ বার নাট্যমঞ্চেও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে তুলে ধরার উদ্যোগ। সে উদ্যোগের অন্যতম প্রধান মুখ রাজ্য বিজেপির অন্যতম শীর্ষনেতা। ‘কেশরী হত্যা’ নাটকের মঞ্চায়নের লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছিল আগেই। শুক্রবার প্রথম বারের জন্য মঞ্চে দাঁড়িয়ে সে নাটকের মহড়ায় অংশ নিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। দমদম রবীন্দ্র ভবনে বেশ কয়েক ঘণ্টা মঞ্চে কাটালেন তিনি।
‘কেশরী হত্যা’ নাটকটি শ্যামাপ্রসাদের জীবন ও কাজের কিছুটা অংশকে নিয়ে লেখা। সে নাটকের মঞ্চায়নে অটলবিহারী বাজপেয়ীর চরিত্রে দেখা যাওয়ার কথা সুকান্তকে। জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরে স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্পমন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ তৈরি করেছিলেন নিজের দল ভারতীয় জনসংঘ। সে দলে শুরু থেকেই তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। ১৯৫৩ সালে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে শ্যামাপ্রসাদ যখন জম্মু-কাশ্মীরে প্রবেশের জন্য যাত্রা শুরু করেছেন, তখন বাজপেয়ী তাঁর সর্বক্ষণের সঙ্গী হয়ে উঠেছেন। শ্যামাপ্রসাদ জানতেন, জম্মু-কাশ্মীরে পা রাখামাত্রই তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। তাই তরুণ রাজনৈতিক সহকর্মী অটলকে তিনি পঞ্জাব এবং জম্মু-কাশ্মীরের সীমানা থেকেই ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তী ইতিহাস এবং কাশ্মীরে বন্দিদশায় শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুর ঘটনা বহুচর্চিত। কিন্তু তার আগের বা পরের যে সব ঘটনা খুব বেশি চর্চিত নয়, তেমন কিছু বিষয় ‘কেশরী হত্যা’ নাটকের মাধ্যমে মঞ্চে ফুটিয়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে রঙ্গ অপেরা।
নাট্যদলটির প্রধান কৌশিক অধিকারী নিজেই শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকায় অভিনয় করছেন। সুকান্তকে তাঁরা মাস দুয়েক আগেই অনুরোধ করেছিলেন এই নাটকে অটলের ভূমিকায় অভিনয় করার জন্য। সুকান্তের নিজের শহর বালুরঘাটের সুনাম রয়েছে থিয়েটারের জন্য। সুকান্ত নিজেও ছাত্রজীবন থেকেই থিয়েটারে অভিনয় করেছেন। ফলে নাটকে অভিনয় তাঁর কাছে নতুন নয়। কিন্তু সক্রিয় রাজনীতিতে এবং মন্ত্রিত্বে আসার পর থেকে তাঁর ব্যস্ততা বহু গুণ বেড়ে গিয়েছে। ফলে এই নাটকটির জন্য ঠিক মতো মহড়া দেওয়ার সুযোগ পাবেন কি না, তা নিয়ে সুকান্তের মনে সংশয় ছিল। অভিনয়ের অনুরোধে সাড়া দিতে তিনি কিছুটা সময় নিচ্ছিলেন। অবশেষে শুক্রবার তিনি রিহার্সালের সেটে হাজির হয়েই গেলেন। অন্তত ঘণ্টাদুয়েক তিনি মঞ্চে কাটিয়েছেন বলে রঙ্গ অপেরা সূত্রে জানানো হয়েছে।
কৌশিকের কথায়, ‘‘সুকান্তবাবু যে অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্যে থাকেন, সে কথা আমরা জানি। সে কথা মাথায় রেখেই এই নাটকের চিত্রনাট্য সাজানো হয়েছে। এমন ভাবেই নাটকটি লেখা হয়েছে, যাতে সুকান্ত মজুমদারকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মঞ্চে একা দেখা যাবে। ফলে তিনি নিজের সময়-সুযোগ মতো একা এসে রিহার্সাল করে গেলেও চলবে। পুরো টিমের সঙ্গে তাঁকে রিহার্সাল করতে হবে, এমন নয়।’’
নাটকটিতে অটলবিহারী রয়েছেন কথকের ভূমিকায়। শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে কী ঘটেছিল বা ঘটানো হয়েছিল, অটল সে সব বর্ণনা করছেন নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে— এ ভাবে রাখা হয়েছে অটলের চরিত্রটিকে। প্রথম দৃশ্যে শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকায় থাকা কৌশিকের সঙ্গেই অটলের ভূমিকায় থাকা সুকান্তকে ম়ঞ্চে থাকতে হবে। বাকি দৃশ্যগুলোয় অটল তথা সুকান্ত যখন মঞ্চে থাকবেন, একাই থাকবেন। কৌশিক বলছেন, ‘‘সুকান্তবাবু স্ক্রিপ্ট নিয়ে বাড়িতে বা কাজের ফাঁকে রিহার্সাল আগেই শুরু করেছিলেন। নাটকের সেটে এসে রিহার্সালটা শুক্রবারই প্রথম করলেন। শনিবার বিকেলেও এখানেই আরও দু’তিন ঘণ্টা তিনি রিহার্সালে অংশ নেবেন।’’ সব ঠিক থাকলে আগামী ১ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় রবীন্দ্র সদনে ‘কেশরী হত্যা’র প্রথম মঞ্চায়ন হওয়ার কথা।
