নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের শার্শায় পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিশেষ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) গভীর রাতে শার্শা উপজেলার বাগুড়ী এলাকার মাস্টারপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ উপজেলার বালাকান্দা গ্রামের আয়ুব আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৫০), একই উপজেলার পাঁচ কাহনিয়া গ্রামের মৃত আমীন উদ্দীন তরফদারের ছেলে বকুল হোসেন (৫০) এবং যশোর শার্শা উপজেলার রামপুর (গোলদারপাড়া) গ্রামের মৃত ছাফেদ আলী মণ্ডলের ছেলে রেজাউল হোসেন (৬০)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগুড়ী গ্রামের আক্কাস আলী মাস্টারের ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালায়। ঐ বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল। অভিযান পরিচালনা করে তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে নগদ ২ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, ৩টি ব্যবহৃত স্মার্টফোন, ১ হাজার টাকার নোটের আকৃতিতে কাটা ৮টি কাচের টুকরা, ২ টুকরো লাল সালু কাপড়, ২ গোছা লাল কাটিং সুতা এবং একটি নীল রঙের হ্যান্ডব্যাগ জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত কাচের টুকরা ও লাল কাপড় প্রতারণার কাজে বিশেষ কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে জাদুটোনা বা অনৈতিক নানা প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। অভিযানের সময় তারা আবারও নতুন করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শার্শা থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক অর্থ আত্মসাতের অপরাধে মামলা দায়েরপূর্বক আজ (১৬ অক্টোবর) দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপরাধ নির্মূলে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
