তিন অঙ্কের দুয়ারে থেকে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিলেন ইরফান শুক্কুর। নতুন দিনে কাঙ্খিত মাইলফলক ছুঁতে বেশি সময় নেননি অভিজ্ঞ বাঁহাতি ব্যাটার। তবে একইরকম আশা জাগালেও সেটিকে পূর্ণতায় রূপ দিতে পারেননি হাবিবুর রহমান হোসেন ও সাব্বির হোসেন। ছক্কার ঝড় তুলে একটুর জন্য প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম শতরান পাননি সোহান।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের তৃতীয় দিনেও ছিল ব্যাটসম্যানদের দাপট। তবে এ দিন তিন অঙ্কের দেখা পান শুধু ইরফান। অন্য তিন মাঠে ব্যাটসম্যানরা ছড়ি ঘোরালেও ফল আসার সম্ভাবনা খুবই কম। ঢাকা ও সিলেটের ম্যাচে তিন দিনেও শেষ হয়নি দুই দলের প্রথম ইনিংস।
ইরফানের সেঞ্চুরির পর বরিশালের লড়াই
কক্সবাজারের একাডেমি মাঠে সেঞ্চুরি থেকে ৮ রান দূরে থেকে সোমবার খেলা শুরু করেন ইরফান। পরে দ্রুতই তিনি পেয়ে যান তিন অঙ্কের জাদুকরী স্পর্শ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১০১ ম্যাচে চট্টগ্রামের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি।
শতক ছুঁয়ে অবশ্য বেশি সময় ক্রিজে টিকতে পারেননি ইরফান। দারুণ জুটিতে তার সঙ্গী শাহাদাত হোসেনও এদিন ফিরে যান দ্রুতই। দুজনের পঞ্চম উইকেট জুটি থামে ১৯৮ রানে।
৩ চার ও ৫ ছক্কায় ১০৯ রানের ইনিংস সাজান শাহাদাত। ইরফানের ব্যাট থেকে আসে ১০ চার ও ৩ ছক্কায় ১১৪ বলে ১১২ রান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার এটি চতুর্থ শতরান।
৯ নম্বরে নেমে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৩৮ বলে ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন রহস্য স্পিনার হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মোহাম্মদ রুবেল। খুলনার রান পেরিয়ে যায় ৫৭০।
তৃতীয় দিনে অবশ্য ৯৩ রান যোগ করতে বাকি ৬ উইকেট হারায় তারা। সব মিলিয়ে পেয়ে যায় ২৯৪ রানের লিড।
বড় লিডের বোঝা নিয়ে দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে নেমে ইতিবাচক শুরু করেন জাওয়াদ আবদুল্লাহ ও ইফতেখার হোসেন ইফতি। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৯৪ রান।
প্রথম ইনিংসে ফিফটি করা জাওয়াদ এবার থামেন ৪১ রানে। অধিনায়ক ইফতেখারের ব্যাট থেকে আসে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৭৪ রান।
দিনের শেষ ভাগে সালমান হোসেন ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ অল্পেই ফিরে গেলে চাপে পড়ে যায় বরিশাল। একপ্রান্ত ধরে রেখে ৩২ রানে অপরাজিত রাফসান আল মাহমুদ।
খুলনার চেয়ে এখনও ১৪৫ রানে পিছিয়ে বরিশাল। ইনিংস পরাজয় এড়ানোর মিশনে শেষ দিন ব্যাটিংয়ে নামবে তারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে)
বরিশাল ১ম ইনিংস: ২৮২
চট্টগ্রাম ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৪৭৯/৪) ১২৩.৩ ওভারে ৫৭৬ (শাহাদাত ১০৯, ইরফান ১১২, শরিফ ১২, আশরাফুল ০, রুবেল ৩৭, মুরাদ ১৩, এনামুল ৭*; রুয়েল ২৪-৩-১২১-২, মইন ৩০-২-১৪২-৩, অভি ২২.৩-১-৯৮-৪, মোজাম্মেল ১৭-২-৮৩-০, রাফসান ৫-০-২২-০, মইনুল ১৫-২-৭০-০, ইফতেখার ১০-০-৩৮-১)
বরিশাল ২য় ইনিংস: ৫৯ ওভারে ১৪৯/৪ (জাওয়াদ ৪১, ইফতেখার ৭৪, রাফসান ৪২*, সালমান ০, আবদুল্লাহ ২, মইনুল ০*; শরিফ ৭.৫-০-২৭-০, এনামুল ২.১-০-৫-০, রুবেল ১৪-৪-৩১-১, আশরাফুল ১৫-৫-৩৬-৩, মুরাদ ১৭-৩-৪০-০, জয় ৩-০-১০-০)
সোহান-সাব্বিরের ব্যাটে রাজশাহীর প্রতিরোধ
প্রথম ইনিংসে ব্যর্থতার হতাশা দারুণভাবেই কাটিয়ে উঠলেন সোহান ও সাব্বির। চমৎকার ব্যাটিংয়ে দুজনই জাগালেন সেঞ্চুরির সম্ভাবনা। কিন্তু খুব কাছে গিয়েও খালি হাতেই ফিরলেন রাজশাহীর দুই ওপেনার। তবে তাদের ব্যাটে খুলনাকে ভালো জবাব দিচ্ছে রাজশাহী।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে রাজশাহীর সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩০০ রান। খুলনার চেয়ে আর ৬৫ রান পিছিয়ে তারা।
অথচ প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১৯ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল রাজশাহী। ফলে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে ছিল ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কা। সেটি অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে তারা।
স্বভাবসুলভ আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৮৩ বলে ৯০ রান করেন সোহান। ৬ চারের সঙ্গে তার ব্যাট থেকে আসে ৮টি ছক্কা। ঘরোয়া ক্রিকেটে সীমিত ওভারের সংস্করণগুলোয় আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ঝড় তোলা ব্যাটসম্যানের এটি লাল বলের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ইনিংস। উদ্বোধনী জুটিতে সাব্বির হোসেনের সঙ্গে যোগ করেন তিনি ১২৪ রান।
পরে তৃতীয় উইকেটে নাঈম আহমেদকে নিয়ে ১১৩ রানের জুটি গড়েন সাব্বির হোসেন। ৯ চার ও ১ ছক্কায় তিনি করেন ৮৮ রান। নাঈম খেলেন ১১ চারে ৬৯ রানের ইনিংস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে)
রাজশাহী ১ম ইনিংস: ১১৯
খুলনা ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৪৬৩/৯) ১৩৬.১ ওভারে ৪৮৪ (সফর ১৩*, হালিম ১২; শফিকুল ১৩-২-৪৫-০, আলি ১৮-১-৭১-০, সানজামুল ৩৯-৩-১৪২-২, মেহেরব ২০-৩-৭৬-২, নিহাদ উজ জামান ৩৮.১-৭-১১৫-৪, সাব্বির ৮-০৩০-১)
রাজশাহী ২য় ইনিংস: ৮১ ওভারে ৩০০/৩ (হাবিবুর ৯০, সাব্বির হোসেন ৮৮, নাঈম ৬৯, প্রিতম ২৭*, সাব্বির রহমান ২১*; সফর ১১-২-৫২-০, হালিম ৮-২-৩৯-০, মেহেদি ২৪-৪-৭৫-১, সামিউন ২১-৩-৭৩-২, পারভেজ ১১-০-৩৭-০, আফিফ ৪-০-১৫-০, আজিজুল ২-০-৮-০)
পাঁচ ফিফটিতে সিলেটের জবাব
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন দিনেও শেষ হয়নি দুই দলের প্রথম ইনিংস। ব্যাটসম্যানদের দাপটে তিন দিনে পড়েছে মাত্র ১১টি উইকেট। পাঁচজনের পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংসে ঢাকার রান পাহাড়ের উপযুক্ত জবাব দিচ্ছে সিলেট।
আগের দিন ৬৫ রান করে আউট হন জাকির হাসান। সোমবার তার পথে হেঁটে ফিফটি করেন সৈকত আলি, আসাদুল্লাহ আল গালিব, আশরাফুল হাসান ও তোফায়েল আহমেদ।
সেঞ্চুরির খুব কাছে গেলেও তিন অঙ্ক ছোঁয়া হয়নি গালিবের। তাইবুর রহমানের বলে স্টাম্পড হন তিনি ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৮৯ রান করে। অভিজ্ঞ সৈকতের ব্যাট থেকে আসে ৬ চারে ৬০ রান।
দিনের শেষ দিকে জুটি গড়ে সিলেটকে ফলো-অন পার করান আশরাফুল ও তোফায়েল। শতকের আশা জাগিয়ে ১০ চারে ৮১ রানে অপরাজিত আশরাফুল। পেস বোলিং অলরাউন্ডার তোফায়েল খেলছেন ৫৬ রানে।
সারা দিনে ৮৯ ওভার বোলিং করে ৩ উইকেটের বেশি নিতে পারেনি ঢাকা। দিনের শেষ ওভার করতে তাই কিপিং প্যাড-গ্লাভস খুলে বল হাতে নেন অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম। এখন পর্যন্ত একাদশের সবাইকে বোলিং করিয়েছেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে)
ঢাকা ১ম ইনিংস: ৫৪৭/৬ (ডি.)
সিলেট ১ম ইনিংস: (আগের দিন ১৫৪/২) ১২৯ ওভারে ৪২৯/৫ (সৈকত ৬০, অমিত ৩১, গালিব ৮৯, আশরাফুল ৮১*, তোফায়েল ৫৬*; সুমন ১৫-৫-৪৬-০, রিপন ১৫-১-৬০-১, এনামুল ১২-০-৪২-, আরিফ ৩৫-১-১০২-১, আমিনুল ২৫-০-১০৬-২, তাইবুর ১৯-৫-৩৫-১, জিসান ২-০-১৬-০, মার্শাল ১-০-৯-০, আশিকুর ২-০-৭-০, নাঈম ১-০-১-০, মাহিদুল ১-০-৬-০)
রংপুরের বড় লিড
সিলেটের একাডেমি মাঠে ময়মনসিংহের বিপক্ষে বড় লিড নিয়েছে রংপুর। তিন দিন শেষে ৩২২ রানে এগিয়ে তারা। এখনও বাকি রয়েছে ৪টি উইকেট।
ফলো-অনে পড়ার শঙ্কা নিয়ে সোমবারের খেলা শুরু করে ময়মনসিংহ। আবু হায়দার রনি ৫২, আব্দুল মজিদ ৪৩ ও রকিবুল হাসানের অপরাজিত ৩৫ রানের সৌজন্যে ফলো-অন এড়ায় গত মৌসুমে জাতীয় লিগে নতুন সুযোগ পাওয়া দলটি।
ময়মনসিংহকে তিনশর আগে থামিয়ে ১২৭ রানের লিড পেয়ে যায় রংপুর।
প্রথম রাউন্ডের মতো এই ম্যাচেও দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটির দেখা পান রংপুর অধিনায়ক আকবর। তবে এবারও সেঞ্চুরি করা হয়নি ২৫ বছর বয়সী কিপার-ব্যাটসম্যানের। দিনের শেষ দিকে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৭৪ রান করে ফেরেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে)
রংপুর ১ম ইনিংস: ৪২২/৯ডি.
ময়মনসিংহ ১ম ইনিংস: (আগের দিন ১৮৩/৬) ৮৭.৪ ওভারে ২৯৫ (মজিদ ৪৩, আবু হায়দার ৫২, রকিবুল ৩৫*, আজিজুল ৬, গালিব ০; মুশফিক ১৭-৫-৫৮-৩, আলাউদ্দিন ১১-১-৩৮-০, রিজওয়ান ১০-১-৩১-০, স্বাধীন ২৬-৪-৯১-৩, হাশিম ১৯-৬-৬১-১, ইকবাল ৪.৪-১-১৫-৩)
রংপুর ২য় ইনিংস: ৫২ ওভারে ১৯৫/৬ (অনিক ২১, মিম ২০, ইকবাল ৩৩, আকবর ৭৪, আলাউদ্দিন ২৪, রিজওয়ান ১, নবীন ৫*, হাশিম ৬*; গালিব ৮-০-৪১-২, আবু হায়দার ৮-০-৩৩-১, আজিজুল ১৪-৬-১৭-১, রিজান ৬-১-১৬-১, আলআমিন ২-০-৮-০, শুভাগত ৪-০-২৫-০, রকিবুল ১০-০-৪৯-১)
