Authored By:
Published on
:
2 min read
এই সময়: দুর্গাপুজোর প্রথম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকেই টুকড়ে–টুকড়ে গ্যাং, ককরোচ পার্টিকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নাম না–করে আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যকেও তিনি টার্গেট করেছেন বলে বিজেপি নেতাদের পর্যবেক্ষণ। রবিবার রাতে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের পুজো সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় এবং বিজেপির পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল। এটাই ছিল বিজেপি নেতৃত্বের প্রথম পুজো উদ্বোধন।
সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার পুজোর এ বারের থিম ‘বন্দেমাতরম’। বেশ কয়েক বছর আগে এই পুজো থেকেই রাষ্ট্রবাদী–সনাতনী সংস্কৃতি রক্ষার লড়াই শুরু হয়েছিল উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, ‘আমাদের তাই কাজ এখনও শেষ হয়নি। টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং, কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি, আরশোলা, ছারপোকা — এদের উৎপাত থেকে ভারতকে বাঁচাতে হবে। তাই বন্দেমাতরমকে জাগ্রত করতে হবে। রাষ্ট্রবাদের জয়জয়কার করতে হবে।’
নাম না করে বিকাশকে ইঙ্গিত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘এক জনের বাড়িতে কেউ সকাল বেলায় একটা ঢিল ছুঁড়ল। আমরা এগুলো পছন্দ করি না। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। সেই কমিউনিস্ট নেতা তাঁর ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে লিখলেন — হিন্দুত্ববাদীদের আক্রমণ। আপনি, আমি — সবাই আমরা হিন্দু নই? আমরা হিন্দুস্থানে থাকি না? এদের কোথা থেকে সাহস হয়?’
বিকাশ পাল্টা জবাব দিয়েছেন। বর্ষীয়ান এই বাম আইনজীবী বলেন, ‘হিন্দু শাস্ত্র–সহ বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ এবং ভারতের সংবিধান এবং আইন সঠিক ভাবে পাঠ করার ফলেই আমার এই সাহস তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে সাহস তৈরি হয়নি। হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে উনি কিছু জানেন না।’ শুভেন্দু আগেই বিকাশকে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট ডিলিট করার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। যদিও সিপিএমের এই আইনজীবী নেতা তা করেনি। সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের পুজো থেকে মুখ্যমন্ত্রী একযোগে টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং এবং বিকাশকে আক্রমণ করার পাশাপাশি ২০২৩–এ এই পুজোর থিম রামমন্দির করার পরামর্শ যে তিনি–ই দিয়েছিলেন, এ দিন তা জানিয়েছেন শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘২০২৩ সাল। রামমন্দিরে প্রাণ প্রতিষ্ঠার আগে সজল আমাকে ফোন করেছিল। বলেছিল, এ বারে কী থিম করা যায়? আমি বলেছিলাম, থিম হবে ‘জয় শ্রীরাম’। যে জয় শ্রীরাম আওয়াজ এখান থেকে উঠেছিল, আজ দার্জিলিং থেকে দিঘা — সব জায়গায় একই আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তিনবার এই পুজোয় এসেছেন।’ শুভেন্দু এ দিন শ্রীভূমির পুজোর উদ্বোধনও করেন।
‘বন্দেমাতরম’ থিম করার জন্য শমীকের প্রশংসাও পেয়েছেন সজল। সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের পুজোতে শ্যামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হিন্দু হোমল্যান্ডের ভাবনা উপস্থাপিত হয়েছে উল্লেখ করে শমীক বলেন, ‘এই কলকাতার অনতিদূরে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বন্দেমাতরম রচনা করেন। এই মণ্ডপের অনতিদূরে ১৯৩৭–এর ২৭ অক্টোবর বন্দেমাতরমকে খণ্ডিত করেছিল জাতীয় কংগ্রেস। বন্দেমাতরমের ইতিহাস — প্রকৃত ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার ইতিহাস।’ বঙ্কিমের সাহিত্যের মূল্যায়নে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কিংবা কমিউনিস্ট নেতা মুজফফর আহমেদ কী ধরনের মনোভাব পোষণ করতেন, তার উল্লেখ করে বামেদের কাঠগড়ায় তুলেছেন শমীক।