সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির বিমান পরিবহনের ইতিহাস সাত দশকের এক অসাধারণ রূপান্তরের গল্প। ১৯৫৫ সালে একটি সাধারণ মরুভূমির রানওয়ে দিয়ে শুরু হয়েছিল সেখানকার বিমানবন্দরের যাত্রা। এই শহরের বিমানবন্দরই আজ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমান পরিবহন হাবে পরিণত হয়েছে। এই রূপান্তর কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নের নয়, বরং সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানীর আধুনিকায়নেরও প্রতীক।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৫৫ সালে আবুধাবিতে প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হয়। তখনকার বিমানবন্দরে ছিল কেবল মরুভূমিতে থাকা একটি রানওয়ে এবং একটি ছোট্ট টার্মিনাল ভবন। সেই সময়ের বিমান নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ভবন এখনো সংরক্ষিত আছে।
১৯৬৮ সালে আল বাতিন বিমানবন্দর চালু হয়। তখন এটি শহরের বাইরে এক নির্জন মরুভূমির ভেতরে অবস্থিত ছিল। পরবর্তীতে এটিই হয়ে ওঠে আবুধাবির প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এই বিমানবন্দর ১৯৮২ সাল পর্যন্ত রাজধানীর প্রধান বিমান পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বর্তমান আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন হয়। তখনকার মূল আকর্ষণ ছিল একটি গোল আকৃতির স্যাটেলাইট টার্মিনাল। ১৯৮৬ সালের দিকে টার্মিনালের বাঁকানো ছাউনি, কন্ট্রোল টাওয়ার ও যাত্রী নামানোর এলাকা স্পষ্টভাবে দেখা যেত। যাত্রী সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরবর্তীতে ব্যাপক সম্প্রসারণ শুরু হয়।
২০০৫ সালে টার্মিনাল-২, ২০০৮ সালে দ্বিতীয় রানওয়ে এবং ২০০৯ সালে টার্মিনাল-৩ চালু হয়। ২০০৩ সালে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ প্রতিষ্ঠার পর আবুধাবির আন্তর্জাতিক সংযোগ আরও শক্তিশালী হয়। সবচেয়ে বড় মাইলফলক আসে ২০২৩ সালের নভেম্বরে। ৭ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার আয়তনের নতুন একটি টার্মিনাল চালু হয়। বছরে ৪ কোটি ৫০ লাখ যাত্রী ধারণক্ষমতা লক্ষ্য নিয়ে এই টার্মিনালের নকশা করা হয়।
২০২৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় শেখ জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের সম্মানে এই নামকরণ করা হয়।
২০২৫ সালে বিমানবন্দর রেকর্ড ৩ কোটি ২৫ লাখ যাত্রী পরিবহন করে। ২০২৬ সালে এসে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান বিমান পরিবহন হাবে পরিণত হয়েছে এবং আবুধাবিকে বিশ্বের একশ’র বেশি গন্তব্যের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
১৯৫৫ সালে আবুধাবি বিমানবন্দর। আমিরাতের বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের শুরুর দিকের সেই দিনগুলোতে এখানে ছিল কেবল একটি সাধারণ টার্মিনাল ভবন ও কন্ট্রোল টাওয়ার। ১৯৬০-এর দশকে আবু ধাবি বিমানবন্দরের ভেতরের একটি দৃশ্য। ছাদের আকর্ষণীয় জ্যামিতিক নকশা, যাত্রীদের ওয়েটিং এরিয়া ও কাউন্টার দেখা যাচ্ছে ছবিতে।১৯৮২ সালে আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা গালফ এয়ারের একটি উড়োজাহাজ। ওই বছরের ২ জানুয়ারি বর্তমান অবস্থানে বিমানবন্দরটি নতুন করে উদ্বোধনের পর ছবিটি তোলা হয়। এই উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানীর বিমান চলাচলের ইতিহাসে এক বড় মাইলফলক উন্মোচিত হয়েছিল। ১৯৮২ সালে আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঐতিহাসিক এক দৃশ্য। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী শহরের বিমান চলাচলের শুরুর দিকের এই ছবিটিতে বিমানবন্দরের সেই সময়কার নজরকাড়া গোলাকার টার্মিনাল ভবন এবং গেটে দাঁড়িয়ে থাকা উড়োজাহাজগুলো স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। ১৯৮৬ সালে আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে থেকে তোলা একটি ছবি। এতে বিমানবন্দরের টার্মিনালের আকর্ষণীয় বাঁকানো ছাদ (ক্যানোপি), কন্ট্রোল টাওয়ার ও যাত্রী নামানোর এলাকা থেকে দেখা যাচ্ছে শুরুর দিকে বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের চিত্র। ১৯৯৭ সালে আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর২০০১ সালে আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চেকইন করছেন যাত্রীরা; আর কাউন্টারে বসে তাদের ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র ও ব্যাগেজ প্রক্রিয়াকরণের কাজ করছেন বিমানবন্দর কর্মীরা। বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনকারী টার্মিনালগুলোর বড় ধরনের সম্প্রসারণের আগের একটি সময়ের বিমানবন্দরের নিয়মিত কার্যক্রম ফুটে উঠেছে ছবিটিতে। ২০২৪ সালে আবুধাবির জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ‘টার্মিনাল এ’-এর ভেতরের এক দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য। বিশালাকার কাচের দেয়াল, উঁচু ছাদ এবং আধুনিক ডিজিটাল ডিসপ্লে সংবলিত দৃশ্যটিতে টার্মিনালটির সুপরিসর ও চোখধাঁধানো অভ্যন্তরীণ সজ্জা ফুটে উঠেছে। আবুধাবির জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২০২৫ সালে ৩ কোটি ২৫ লাখ যাত্রী সেবা দিয়েছে এবং ২০২৬ সালের জুনের শেষের দিকে প্রতিদিন গড়ে ৯৩ হাজারের বেশি যাত্রী এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেছে। এই বিপুল যাত্রী সংখ্যার মাধ্যমে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের অন্যতম বড় কেন্দ্র বা হাব হিসেবে বিমানবন্দরটির ক্রমবর্ধমান ভূমিকা ফুটে উঠেছে।