চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১৫অক্টোবর ) ১৮০ তম বিশ্ব অ্যানেস্থেশিয়া দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সোসাইটি অব অ্যানেস্থেসিওলজিস্টস, ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড পেইন ফিজিশিয়ান্স (বিএসওএসিসিপিপি)-এর চট্টগ্রাম শাখার উদ্যোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। র্যালিতে চিকিৎসক, শিক্ষক, হাসপাতাল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অ্যানেস্থেসিওলজিস্টরা অংশগ্রহণ করেন।
- Advertisement -
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।
এসময় মেয়র চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে দেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামোতে ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছিল। উপজেলা হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৩১ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়, নতুন জেলা শহরের হাসপাতালে ৫০ থেকে ১০০ এবং পুরোনো জেলা শহরের হাসপাতালে ১০০ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। একই সঙ্গে নতুন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, মা ও শিশু মৃত্যুহার কমানো এবং পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি জোরদার করার মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমানো হয়েছিল। চট্টগ্রামে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের বর্তমান উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আনিসুল হোসেন, ড্যাব চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন মানিক, চমেকের এনেসথেসিয়া পেইন পেলিয়েটিভ ও ইনটেনসিভ কেয়ারের বিভাগীয় প্রধান এবং বিএসএওসিসিপিপি চট্টগ্রাম শাখার সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক ডা. কে এম বাকি বিল্লাহ, ড্যাব চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. আব্বাস উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. ইফতেখার ইসলাম লিটন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডা. ইমরোজ উদ্দিন, বিশিষ্ট অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ও ইনটেনসিভিস্ট ডা. আশরাফুল কবির ভূইয়া, সহযোগী অধ্যাপক ডা. আজিজুল হক, সহযোগী অধ্যাপক ডা. রেজাউল হক টিপু, সহকারী অধ্যাপক ডা. ইশতিয়াক মাহমুদ এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ মাঈনুদ্দিন। এ সময় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ এবং চট্টগ্রামের সর্বস্তরের অ্যানেস্থেসিওলজিস্টরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসএসিসিপিপি-এর চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ডা. মো. কামরুল হাসান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কন্সাল্টেন্ট অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডা. এম. এন. জায়েদ বাশরী।
বিশ্ব অ্যানেস্থেশিয়া দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আয়োজিত এ কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য ছিল অস্ত্রোপচারের পূর্বে, চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে নিরাপদ অ্যানেস্থেশিয়া ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। অস্ত্রোপচারের আগে রোগীর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন ও যথাযথ প্রস্তুতি, অস্ত্রোপচার চলাকালীন রোগীর জীবনরক্ষাকারী শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং অস্ত্রোপচার-পরবর্তী ব্যথা নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ পুনরুদ্ধারে অ্যানেস্থেসিওলজিস্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অ্যানেস্থেসিওলজি শুধু অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেস্থেশিয়া প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ক্রিটিক্যাল কেয়ার, জরুরি চিকিৎসা এবং ব্যথা ব্যবস্থাপনায় এ বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ অস্ত্রোপচার ও উন্নত রোগীসেবা নিশ্চিত করতে অ্যানেস্থেসিওলজিস্টদের অবদানকে স্বীকৃতি দেয়া এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা বিশ্ব অ্যানেস্থেশিয়া দিবস উদ্যাপনের অন্যতম লক্ষ্য।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে অ্যানেস্থেসিওলজি, ক্রিটিক্যাল কেয়ার ও পেইন মেডিসিন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং রোগীর নিরাপত্তা ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা আরও সুদৃঢ় হবে।
