কোনো এলাকায় ফাঁদে পুরুষ এইডিস মশা বেশি ধরা পড়লে বোঝা যাবে, সেখানে নতুন করে মশার জন্ম হচ্ছে।
Published : 16 Oct 2026, 11:29 PM
Updated : 16 Oct 2026, 11:29 PM
ডেঙ্গুর বাহক এইডিস মশা আগেভাগে শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত একটি স্বয়ংক্রিয় ‘স্মার্ট ফাঁদ’ তৈরি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক।
‘মাস্ট-ক্লাউডনেট’ নামের এই ফাঁদ শব্দ দিয়ে মশা টেনে এনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রজাতি শনাক্ত করতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের গবেষকরা যৌথভাবে এটি তৈরি করেছেন বলে শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্ত্রী এইডিস মশার ডানার শব্দের মতো একধরনের শব্দ তৈরি করে ফাঁদটি। এতে আকৃষ্ট হয়ে পুরুষ এইডিস মশা কাছে এলে ফাঁদের ভেতরের ফ্যান সেগুলোকে টেনে আঠালো কাগজে আটকে ফেলে। পরে ভেতরে থাকা ক্যামেরা মশার ছবি তুলে ক্লাউড সার্ভারে পাঠায়। সেখানে এআই মডেল মশার প্রজাতি শনাক্ত করে ড্যাশবোর্ডে ফলাফল জানিয়ে দেয়।
গবেষকরা বলেন, সাধারণত মানুষকে কামড়ায় স্ত্রী এইডিস মশা। তবে পুরুষ মশা স্ত্রী মশার আগে পূর্ণবয়স্ক হয় এবং প্রজননস্থলের কাছাকাছি থাকে। ফলে কোনো এলাকায় ফাঁদে পুরুষ এইডিস মশা বেশি ধরা পড়লে বোঝা যাবে, সেখানে নতুন করে মশার জন্ম হচ্ছে। এটি ডেঙ্গু ঝুঁকির আগাম সংকেত হিসেবে কাজ করবে।
গবেষণাগারে পরীক্ষায় দেখা গেছে, শব্দহীন ফাঁদের তুলনায় এই শব্দযুক্ত ফাঁদ গড়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি এইডিস মশা ধরেছে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে টানা তিন দিন পরীক্ষা চালালে ফাঁদটিতে ৪৯টি এইডিস মশা ধরা পড়ে।
গবেষকরা জানান, প্রতিটি ফাঁদ তৈরিতে খরচ পড়ে প্রায় ১২ হাজার টাকা, যা বাজারে থাকা অন্যান্য ফাঁদের (২০-২৫ হাজার টাকা) চেয়ে বেশ সাশ্রয়ী। বিদ্যুৎ চলে গেলেও ব্যাটারির সাহায্যে ফাঁদটি প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা চালু থাকতে পারে।
বড় পরিসরে পরীক্ষার জন্য আগামী বছরের জুন-জুলাই মাসে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন-ডিএসসিসির বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় ১০ থেকে ১৫টি ফাঁদ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে গবেষকদের। এর মাধ্যমে কোন এলাকায় এইডিস মশা বাড়ছে, তার আগাম মানচিত্র তৈরি করা সম্ভব হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা তহবিলের অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণাটি গত ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘আইইইই ট্রানজ্যাকশনস অন ইনস্ট্রুমেন্টেশন অ্যান্ড মেজারমেন্ট’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যায়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এ উদ্ভাবনকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “কোন এলাকায় এইডিস মশা বাড়ছে সেটি জানা গেলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। এই যন্ত্রটি সে ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।”
