আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে টানা ৭২ ঘণ্টা ব্যাপক হামলার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এতে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো হামলার অনুমোদন দেননি। অন্যদিকে নতুন হামলা হলে কঠোর পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। তিন দিনের অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে সাতটি প্রশ্ন সামনে এসেছে।
৭২ ঘণ্টার সামরিক পরিকল্পনাটি কী?
মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীদের একাংশ মনে করছেন, তিন দিনের ব্যাপক হামলায় ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করা সম্ভব। এতে তেহরান ছাড় দিতে বাধ্য হতে পারে। চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সামরিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
আরও পড়ুন
আট মাসেও যা সম্ভব হয়নি, তিন দিনে কি তা হবে?
দীর্ঘ সামরিক অভিযান, নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধের পরও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের দাবি মানেনি ইরান। কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, নতুন হামলায় ইরানের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে। তবে পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা ডানা স্ট্রাউল বলেছেন, ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধ কীভাবে অচলাবস্থা কাটাবে, তার বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু দেননি।
৩ নভেম্বর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। ভোটের আগে নতুন হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। এদিকে নভেম্বরের শুরুতে তিনটি বিমানবাহী রণতরি, কয়েক হাজার মেরিন সেনা, যুদ্ধবিমান ও বিশেষ বাহিনী প্রস্তুত রাখতে চায় ওয়াশিংটন। ইরানে রাত দীর্ঘ হওয়াও অভিযানে সুবিধা দিতে পারে।
ট্রাম্প বারবার হামলা পিছিয়ে দিচ্ছেন কেন?
চলতি বছর একাধিকবার বড় হামলার প্রস্তাব স্থগিত করেছেন ট্রাম্প। চলতি মাসের শুরুতে যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখার পরও অভিযান বাতিল হয়। এর মধ্যে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলার পর গত বুধবার সৌদি আরব থেকে অজরুরি মার্কিন দূতাবাসকর্মী ও তাদের পরিবারকে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে সামরিক পরিকল্পনাকারীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। জ্বালানির দাম, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধকের মজুত নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। হোয়াইট হাউস সম্ভাব্য পরিকল্পনায় মন্তব্য করেনি। তবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে সব বিকল্প খোলা রাখার কথা জানিয়েছে।
ইসরায়েলের নির্বাচন কী প্রভাব ফেলতে পারে?
নির্বাচনে নেতানিয়াহু হারলে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন হামলা শুরু করা কঠিন হতে পারে। বিশ্লেষক মাজাল মুয়ালেমের মতে, জরুরি সরকার গঠনের উদ্যোগও বিরোধীদের সন্দেহের মুখে পড়বে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর ইসরায়েলের পরিকল্পিত হামলা ট্রাম্প থামিয়েছিলেন।
নতুন হামলা হলে ইরান কীভাবে জবাব দিতে পারে?
ইরানি আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদি ৭২ ঘণ্টায় সংঘাত শেষের ধারণাকে ‘কল্পনাবিলাস’ বলেছেন। আরও ভয়াবহ ও ভিন্নধর্মী হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ইরান জাহাজ ও জ্বালানি স্থাপনার পাশাপাশি ডেটা সেন্টার এবং সমুদ্রতলের ইন্টারনেট কেবল লক্ষ্যবস্তু করার কথা বিবেচনা করছে।
কূটনৈতিক আলোচনায় কি নতুন হামলা ঠেকানো সম্ভব?
সামরিক প্রস্তুতির মধ্যেও আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালিতে ইরান ছাড় দিক। ইরানের চাওয়া দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ, অর্থনৈতিক চাপ কমানো ও নৌচলাচলের বিধিনিষেধের ফায়সালা।
৮ অক্টোবর ট্রাম্প আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি ও ছাড় দেওয়ার ক্রম নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। ফলে ৭২ ঘণ্টার হামলা এখনো অনুমোদিত অভিযান নয়। সূত্র: গালফ নিউজ
