ছোটবেলা থেকে বড়বেলার মধ্যে যে কখন পুজোর স্বাদ পাল্টে যায়, বোঝাই দায়। পাল্টে যায় চেনা চারপাশ, চেনা মানুষজন। বয়সের সঙ্গে পুজোর সংজ্ঞা বদলে যাওয়ার সেই গল্পই ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী ঋদ্ধিমা ঘোষ।
অভিনেত্রীর মামার বাড়ি এলাহাবাদে। ছোটবেলায় এক বছর কলকাতায়, অন্য বছর এলাহাবাদে— এ ভাবেই কাটত পুজো। কলকাতার পুজো অবশ্যই আড়েবহরে অনেক বড় এবং অন্য রকম। কিন্তু এলাহাবাদে সে সময়ে মাত্র দুটো দুর্গাপুজো হতো। ওখানকার সব বাঙালি পরিবার মিলে খুব হইহই করেই কাটত পুজোর দিনগুলো। এ ছাড়াও মামার বাড়ির সকলের সঙ্গে খুব আনন্দ করতেন তিনি।
আর কলকাতার পুজো মানে ছিল পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে দেদার মজা— ক্যাপ বন্দুক ফাটানো, দৌড়োদৌড়ি, হুল্লোড়। ছোটবেলার সেই সব দিনগুলো এখন বড্ড মনে পড়ে ঋদ্ধিমার।
ছোটবেলায় ওই কয়েকটা দিনের জন্য বাড়ি থেকে ছিল পুরোপুরি ছাড়। সেটাকেই তখন মনে হতো জীবনের আসল স্বাধীনতা। তবে সে সময়ে খুব যে বেশি ঘুরে ঘুরে ঠাকুর দেখেছেন ঋদ্ধিমা, এমনটা নয়। বরং বড় হয়ে অভিনেত্রী হওয়ার পরে, কাজের সূত্রে অনেক বেশি ঠাকুর দেখার সুযোগ হয় এখন।
ছোটবেলায় ঋদ্ধিমার পাশের বাড়িতেই পুজো হতো। তা ছিল প্রায় তাঁর নিজের বাড়ির পুজোর মতোই। ছেলেবেলার পুজোর স্মৃতির একটা বড় অংশ জুড়েই রয়েছে সেই পুজো। জড়িয়ে রয়েছে দলবেঁধে পুজোর কাজ করা, ভোগ খাওয়া, ধুনুচি নাচ-সহ আরও বিভিন্ন স্মৃতি।
অভিনেত্রী কাজ করতে শুরু করেছেন কলেজে ওঠার পর থেকেই। তাই সেই সময় থেকে তাঁর পুজো কাটানোর ধরনও বদলেছে। এখন পুজোটা অনেকখানি অন্য রকম। দিনের বেলা কাজ, আর রাতে বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে মজা করে কাটান ঋদ্ধিমা। তবে ছেলে ধীরের জন্মের পর থেকে চেষ্টা করেন যতটা বেশি সময় সম্ভব তার সঙ্গে কাটাতে।
এ বছর ছেলের সঙ্গে তাঁর তৃতীয় পুজো। দুর্গাপুজো কী বা কেমন, সেই সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই ছোট্ট ধীরের। তবে সে জানে, মা দুর্গার চার সন্তান রয়েছে। তাদের নামও বলতে পারে সে। তবে তার জনের মধ্যে তার সব থেকে প্রিয় হল গণেশ ঠাকুর। আর ধীরের কাছে সব থেকে অবাক করা বিষয় হল দেবী দুর্গার সঙ্গে থাকা সিংহটি। এ ছাড়াও পুজোর ঢাকের তালে নাচতে খুব ভালবাসে ধীর।
পুজোর সময়ে যেহেতু কাজের চাপ একটু কম থাকে, তাই প্রতি বছর এ সময়ে গৌরব, ঋদ্ধিমা এবং তাঁদের সংসারের ছোট্ট সদস্যটি কোথাও না কোথাও বেড়াতে যান। এ বছরও নবমীর দিন বেরিয়ে পড়বেন তাঁরা। প্রতি বছর তিন জনের এই ঘুরতে যাওয়া অভিনেত্রীর কাছে খুবই আনন্দের।
গৌরব এবং ঋদ্ধিমা চেষ্টা করেন পুজোর সময়ে ছেলের সঙ্গে অনেক বেশি সময় কাটানোর। কারণ তাঁরা মনে করেন, ছোটবেলার এই স্মৃতিগুলোই ধীরের জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত হিসেবে থেকে যাবে। তাই কাজের ব্যস্ততার মাঝেও সময় বার করেন তারা।
ঋদ্ধিমা সারা বছরই ছেলের জন্য কেনাকাটা করেন। এ ছাড়াও সেপ্টেম্বর মাসে ধীরের জন্মদিন। তাই তখনও সে প্রচুর উপহার পায়। তাই আলাদা করে তার জন্য সাধারণ জামাকাপড় না কিনলেও পুজোর আগে খুব শখ করে বাঙালি পোশাক মানে পাঞ্জাবি, কুর্তা, ধুতি, পাজামা কেনা হয়।
অভিনেত্রী খেতে খুব ভালবাসেন। পুজোর সময়ে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় খাবার হল ভোগ। তিনি মনে করেন, ভোগের খিচুড়ির সঙ্গে কোনও খাবারের তুলনাই চলে না। এ ছাড়াও লুচি-সাদা আলুর তরকারি, যে কোনও ধরনের মিষ্টি, বিরিয়ানি থেকে চাইনিজ— সবই তাঁর পছন্দের।
মা দুর্গার কাছে ঋদ্ধিমা চান, তাঁর ছেলে যেন সব সময়ে খুব ভাল থাকে, খুশি থাকে, সুস্থ থাকে। সেই সঙ্গে চার পাশে সবাই যেন ভাল থাকে। এ ছাড়াও তিনি চান, মানুষ যেন তার মনুষ্যত্ব বোধ হারিয়ে না ফেলে। আর যদি হারিয়েও থাকে, তা হলে যেন আবার তা ফিরে পায়।
পুজোর পরেই ২৩ অক্টোবর মুক্তি পাচ্ছে তাঁর অভিনীত ‘শ্বেতকালী ২’। ঋদ্ধিমার আশা, পুজোর পরে সবাই যখন খুব ক্লান্ত হয়ে বাড়িতে আরাম করবেন, তখন তাঁরা নিশ্চয়ই সিরিজটি দেখে ফেলবেন।
এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।
