স্টাফ রিপোর্টার।।
ভোলায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে সরকারি কলেজের ছয় শতাধিক নবীন শিক্ষার্থীকে নিয়ে নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ছাত্রশিবিরের ভোলা সরকারি কলেজ শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে কলেজের একাদশ শ্রেণি ও অনার্স প্রথম বর্ষে সদ্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ। বক্তব্যে বিএনপি ও ছাত্রদলের সমালোচনা করে এস এম ফরহাদ বলেন,ক্যাম্পাস ডেমোক্রেসিকে গলা টিপে হত্যা করা বিএনপি ও ছাত্রদলের চিরাচরিত ঐতিহ্য।
![]()
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর সংসদে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্রের বিজয় ও গণতন্ত্র অটুট রাখার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু অতীতেও একই ধরনের বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। ১৯৯০ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল জয়ী হওয়ার পরও তাদের সমর্থিত সরকার ও উপাচার্য দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচন না দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ভোলা সরকারি কলেজে ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ফরহাদ বলেন, কলেজ ক্যাম্পাসে এ অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা থাকলেও ছাত্রদল তা বানচাল করতে বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে ছাত্রদল দিন দিন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদলের পরাজয়কে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংগঠনটির দূরত্বের প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন ডাকসুর এই জিএস। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের মেয়াদ শেষ হলেও নতুন নির্বাচন দেওয়া হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এস এম ফরহাদ বলেন, সংসদে যেভাবে গণতন্ত্রের কথা বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতেও সেই গণতান্ত্রিক চর্চার সুযোগ দিতে হবে। ক্যাম্পাসে মতপ্রকাশ ও সমাবেশের অধিকার বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়। সংসদে গণতন্ত্রের কথা বলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অধিকার সংকুচিত করা দ্বিচারিতা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে ফরহাদ অভিযোগ করেন, তেলের দাম বাড়িয়ে সরকার ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। তাঁর দাবি, সরকার ঠিকমতো দেশ পরিচালনা করতে পারছে না।
![]()
বিএনপি সংসদে গনতন্ত্রের কথা বলে আর ক্যাম্পাসে গনতন্ত্রকে হত্যা করছে। ঝিনাইদহ, তিতুমির কলেজ,ভোলা কলেজ এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ক্যাম্পাসে যদি গনতন্ত্রের চর্চা না হয় তাহলে আমরা ধরে নিবো বিএনপি ফ্যাসিজমের পথে হাটছে।
শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনের আহ্বান
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এস এম ফরহাদ বলেন, শিক্ষাজীবন থেকেই ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি নিতে হবে। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন, বাস্তবমুখী জ্ঞান বৃদ্ধি এবং নিজেদের যোগ্যতা বিকাশে মনোযোগী হতে হবে।
তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করেও অনেক শিক্ষার্থী কেন বেকার থাকছেন, বেকারত্ব কমাতে কী ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন এবং কর্মজীবনের জন্য কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে—এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই সচেতন হওয়া জরুরি। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা শাখার নায়েবে আমির অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সহকারী দাওয়াহ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং জামায়াতে ইসলামী ভোলা শহর শাখার সভাপতি মাওলানা হাসনাইন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবিরের ভোলা সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি মো. আল আমিন। সঞ্চালনা করেন শাখাটির সাবেক সভাপতি আরিফ আহমেদ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল জায়েদ, জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির কামাল হোসেন, পৌর আমির জামাল উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের ভোলা শহর শাখার সাবেক সভাপতি নাহিদ হাসান, শহর শাখার সেক্রেটারি তাহসান সোহেল, কলেজ শাখার সেক্রেটারি কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও নবীন শিক্ষার্থীরা।