সংবাদ · আন্তর্জাতিক
বিশ্ববাজারে তেলের দাম পাঁচ মাসে সর্বোচ্চ
২০/১০/২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের বাজারে আবার তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।মঙ্গলবার দাম এক লাফেই প্রতি ব্যারেল ১১১ ডলারের ঘর ছাড়িয়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে তেলবাহী জাহাজে হামলা এবং রাশিয়া ও ইউক্রেনের একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্রমাগত পাল্টাপাল্টি আক্রমণের খবর আসায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।এসব একের পর এক উদ্ভূত ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও নৌপথের নিরাপত্তা সংকট তেলের দামকে দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী করে তুলছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা করা হচ্ছে।ইরানের আধা-সরকারি ফার্স সংবাদ সংস্থার এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হরমুজ প্রণালিতে মাইনে আঘাত লেগে দুটি বিশাল তেলবাহী জাহাজে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। দেশটির সামরিক বাহিনী ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইআরজিসি কঠোর বার্তা জারি করে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সতর্ক করেছে।সংগঠনটি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত 'উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড' যদি অবিলম্বে বন্ধ না করা হয় এবং তা অব্যাহত থাকে, তবে বিশ্বজুড়ে পরিচালনাকারী তেল কোম্পানিগুলোকে ভবিষ্যতেও আরও বড় ধরনের মূল্য দিতে হবে।উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে আইআরজিসি আরেকটি বিস্ফোরক দাবি করেছে। তারা জানায়, হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় নজরদারির কাজে নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯’ চালকবিহীন ড্রোন নিখুঁত হামলায় ভূপাতিত করা হয়েছে।উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে এই নির্দিষ্ট অঞ্চলে যেকোনো সামরিক সংঘাত, ড্রোন হামলা বা উত্তেজনা বৃদ্ধির খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত করে। একই সঙ্গে জ্বালানির বাজারমূল্য অনিয়ন্ত্রিত করে তুলে পুরো বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ ও অস্থিরতার সৃষ্টি করেছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗