Published on
:
2 min read
এই সময়: পাড়ার পুজোর উদ্বোধনে যাওয়ার সময়ে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আঘাত করার চেষ্টা হয়েছে বলে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করল কালীঘাট তৃণমূল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কালীঘাটের মিলন সঙ্ঘের পুজোয় যাওয়ার সময়ে এই ঘটনায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর অনুগামীরা। তবে লালবাজার সূত্রে রাতে জানানো হয়েছে, বাড়ি থেকে বেরোনোর সময়ে মমতার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার ৩৮ বছরের অনসূয়া সাহা। অভিযুক্ত মহিলাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে কালীঘাট থানার পুলিশ।
মমতা–তৃণমূলের অভিযোগ, এ দিন সন্ধ্যায় সাংসদ দোলা সেন এবং স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে পুজোমণ্ডপের দিকে যাচ্ছিলেন নেত্রী। সেই সময়ে ভিড়ের মধ্যে এক মহিলা আচমকা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয় টপকে তাঁর সামনে হাজির হন। মমতাকে ঘুসি মারতে উদ্যত হওয়ার পাশাপাশি ছুরি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টাও হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার পরে সাংসদ দোলা সেন কালীঘাট থানায় ইমেল করে বিষয়টি বিস্তারিত জানান। কালীঘাট তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ সাখেত গোখলে এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবার প্রমাণিত হলো যে, পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে জেড প্লাস নিরাপত্তা পাওয়া এবং তিনবারের মুখ্যমন্ত্রীও নিরাপদ নন।’ যদিও বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি।
দলের অন্যতম মুখপাত্র রীতেশ তিওয়ারি বলেন, ‘গোটা দেশের মধ্যে অভিযোগ করার নিরিখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক নম্বরে। উনি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বলেছিলেন, ওঁর পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে সেই অভিযোগ ঠিক নয়। আসলে রাজনীতিতে ভেসে থাকার জন্য উনি এ সব অভিযোগ করে সহানুভূতি আদায় করতে চাইছেন। কিন্তু বাংলার মানুষ ওঁকে আর বিশ্বাস করে না।’
রাতে লালবাজারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে তাঁর মুখোমুখি হন কলকাতা পুলিশের ওয়েস্ট পোর্ট থানার সিভিক ভলান্টিয়ার অনসূয়া। এর পরেই দু’পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। ২০১১–র ২৬ নভেম্বর অনসূয়া কাজে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৫–এর ২ নভেম্বর থেকে কাজে অনুপস্থিত ছিলেন। এই বিষয়টিও ওয়েস্ট পোর্ট থানায় সেদিনই নথিভুক্ত করা হয়েছিল।