Published on
:
2 min read
সনাতন ধর্মে যাঁরা বিশ্বাসী, তাঁরাই প্রতিমায় হাত দেবেন, বুধবার বাজেকদমতলা ঘাটে প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রস্তুতি দেখতে গিয়ে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু বলেন, ‘এটা উৎসব বটেই। তবে তা মুখ্য নয়। মুখ্য হলো ধর্মীয় ঐতিহ্য। তা ঠিকঠাক রাখতে হবে। তাই এ বার ক্রেন নয়, ট্রলি রাখা হয়েছে। আমি সিপিকে বলে গেলাম, যাঁরা মাকে নিয়ে যাবেন সেই সমস্ত লোকজনের নাম, পরিচয়ও আইডেনটিফাই করে দিতে হবে। যাঁরা সনাতন ধর্ম মানেন, তাঁরাই প্রতিমায় হাত দেবেন। এটার মধ্যে কোনও সাম্প্রদায়িকতা নেই।’
আজ, বুধবার দশমী। বাংলার প্রতি কোণে বিষাদের সুর। সপরিবার কৈলাসে পাড়ি দেবে উমা। গঙ্গার বড় ঘাটগুলিতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। বহু জায়গায় প্রতিমা নিরঞ্জন শুরু হয়ে গিয়েছে। সকাল সকালই বাজেকদমতলা ঘাট পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সমস্ত ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন তিনি।
এক নজরে
ক্রেনের বদলে ট্রলি: বাজেকদমতলা ঘাটে এ বার দুর্গাপ্রতিমা নিরঞ্জনে ক্রেনের পরিবর্তে ট্রলি ব্যবহার করা হবে।
পরিচয় যাচাই: বিসর্জনের কাজে যাঁরা যুক্ত থাকবেন, তাঁদের নাম ও পরিচয় চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
নিরাপত্তায় NDRF: কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি NDRF-কে যুক্ত করা হয়েছে।
দ্রুত ঘাট পরিষ্কার: বিসর্জনের পর বৃহস্পতিবার ভোর থেকে প্রতিমার কাঠামো ও অন্যান্য সামগ্রী সরানোর কাজ চলবে।
টাকিতে বাড়তি সতর্কতা: ইছামতীতে বিসর্জনের সময় নৌকায় থাকা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় লাইফ জ্যাকেট, BSF ও NDRF-এর সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
গত কয়েক বছরে ক্রেনে তুলে প্রতিমাকে গঙ্গায় বিসর্জনের বিষয়টি নিয়ে নানা মহল থেকেই অভিযোগ উঠছিল। এ ভাবে প্রতিমা নিরঞ্জন করতে গিয়ে মূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতো, একই সঙ্গে ঘরের মেয়ের এমন বিদায় দেখতেও ভালো লাগত না। শুভেন্দু জানান, এ বার বিসর্জনে ক্রেন নয়, ট্রলির ব্যবহার করা হবে। তার জন্য ঘাটে বিশাল ট্রলি আনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগে শুধু রাজ্য পুলিশ বা কলকাতা পুলিশ বিসর্জনের কাজে থাকত, এ বার NDRF-কেও যুক্ত করা হয়েছে। যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে। বিসর্জনের পরে দ্রুততার সঙ্গে ঘাট পরিষ্কার করার কাজও হবে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই কাঠামো, অন্যান্য জিনিস সরানোর কাজ চলবে। ঘাটে চলবে কড়া নজরদারিও।
তবে টাকির ইছামতিতে বিসর্জন নিয়ে উদ্বেগ থাকছে প্রশাসনের। শুধু ঠাকুর বিসর্জনই নয়, ২০০-র মতো নৌকাতে দর্শনার্থীরাও থাকেন। এই প্রসঙ্গেই তিনি জানান, এটা তাঁরা আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন।
তাঁর কথায়, ‘আমরা ওদের বিরত করতে চেষ্টা করেছিলাম। তবে এটায় একটা আবেগ কাজ করে। ফলে লাইফ জ্যাকেট ও অন্যান্য নিরাপত্তার বিষয়ে পদক্ষেপ করা হয়েছে। BSF-এর সাহায্য নেওয়া হয়েছে, NDRF-এর একটা টিম থাকছে। একজন ক্যাবিনেট মিনিস্টারকে পাঠানো হয়েছে, ডিআইজি বারাসত রেঞ্জকেও ওখানে রাখা হয়েছে।’
FAQs
১. বাজেকদমতলা ঘাটে এ বার কী ভাবে প্রতিমা বিসর্জন হবে?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, এ বার ক্রেনের বদলে ট্রলি ব্যবহার করে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হবে।
২. প্রতিমা নিরঞ্জনের কাজে কারা যুক্ত থাকবেন?
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় চিহ্নিত করা হবে। সনাতন ধর্মে বিশ্বাসীদেরই প্রতিমা স্পর্শ করার কথা বলেছেন তিনি।
৩. বিসর্জনের নিরাপত্তায় কোন বাহিনী থাকছে?
রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি NDRF-কে নিরাপত্তার কাজে যুক্ত করা হয়েছে।
৪. বিসর্জনের পর বাজেকদমতলা ঘাট পরিষ্কার হবে কখন?
বৃহস্পতিবার ভোর থেকে প্রতিমার কাঠামো ও অন্যান্য সামগ্রী সরানোর কাজ শুরু হবে।
৫. টাকির ইছামতীতে কী নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
ইছামতীতে বিসর্জনের সময়ে লাইফ জ্যাকেট, BSF-এর সাহায্য এবং NDRF-এর একটি দল মোতায়েন রাখার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি প্রশাসনের আধিকারিকদেরও সেখানে রাখা হয়েছে।