কালবেলা · দেশ
সুইডিশ বিনিয়োগ চান স্পিকার, অর্থ ফেরাতে চান যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা
২৫/১০/২০২৬

বঙ্গোপসাগরের উপকূলে থাকা তেল ও গ্যাস উত্তোলনে সুইডিশ কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি বিগত ১৭ বছরে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে মার্কিন সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
রোববার (২৫ অক্টোবর) স্পিকারের কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাকসোদা মাকসোদির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় এসব বিষয় উঠে আসে।
সুইডিশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতে দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক জোরদার, সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, বিনিয়োগ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা হয়। অন্যদিকে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, সামাজিক সুরক্ষা, তৈরি পোশাকশিল্পের বহুমুখীকরণ, কৃষিতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশি শ্রমিকদের মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয় আলোচনায় আসে।
সুইডেনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতে স্পিকার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সুইডেন বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে ২ দেশের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন পারস্পরিক সম্পর্ক ও সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
স্পিকার বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ সবসময় গণতন্ত্রপ্রিয়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এ দেশের মানুষ জীবন দিতেও দ্বিধা করেননি। দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ সেই শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভোটাররা নিজেদের পছন্দের দল ও প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেন।’
এ সময় স্পিকার চলমান সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কেও সুইডিশ রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস সুইডেনের সংসদীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে তুলে ধরেন।
তিনি জানান, সুইডেনের পার্লামেন্টে ৩৪৯টি আসন রয়েছে। সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে চার বছরের জন্য নির্বাচিত হন। দেশটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা পার্লামেন্ট ও সরকারের হাতে ন্যস্ত।
উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে স্পিকার বলেন, ‘চার দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও সামাজিক সুরক্ষার মতো জাতীয় অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে সংস্থাটির ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে তুলনামূলকভাবে কম অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি উপকূলীয় অঞ্চল, হাওর ও নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষের জীবিকা ক্রমেই বিপন্ন করছে।’
স্পিকার বলেন, ‘মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।’
বৈঠকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বহুমুখীকরণ, কৃষিপণ্য উৎপাদনে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশি শ্রমিকদের মানবাধিকার সুরক্ষা নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা।
এ সময় স্পিকার জানান, বিগত ১৭ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে বিপুল অর্থ পাচার হয়েছে। এসব অর্থ পুনরুদ্ধারে তিনি মার্কিন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
দুই বৈঠকেই সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ছাড়াও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়াসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗