সাধারণ ছবিকে ভালো বা খারাপ বলা যেতে পারে, কিন্তু ছবি যদি হয় লার্জার দ্যান লাইফ তা হলে তার বিচার করা কঠিন হয়ে পড়ে। যেমন রজনীকান্তের ছবি, যা ঠিক বাস্তবের হিসেবের আওতায় পড়ে না। কিছুটা সেই ‘কোথা হইতে কী হইয়া গেল’ ধরনের ঘটনাকেও যেন আর অবাস্তব বলে মনে হয় না, কারণ পর্দায় স্বয়ং ‘থালাইভার’ রয়েছেন! ২০২৩ সালে এসেছিল ‘জেলার’। তিন বছর পার করে উৎসবের মরশুমে মুক্তি পেয়েছে ‘জেলার ২’। পরিচালনায় আগের মতোই নেলসন দিলীপকুমার। রজনীকান্ত ছাড়াও আগের মতোই রামিয়া কৃষ্ণন ও মিরনাও রয়েছেন।
ছেলের মৃত্যুর পর প্রাক্তন জেলার টাইগার মুথুভেল পান্ডিয়ান ওরফে মুথু (রজনীকান্ত) সুপার মার্কেট সামলায়, বাড়ির যে কোনও প্রয়োজনে স্ত্রীকে (রামিয়া) সাহায্য করে এবং নাতি ঋত্বিককে নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু আবারও মূর্তি চুরির চক্রে জড়িয়ে পড়তে হয় তাকে। নেলসনের বরাবরের স্টাইলমাফিক প্রথমার্ধ কমেডিতে ভরপুর। সঙ্গে রয়েছে রজনী ইউনিভার্সের নিজস্ব নিয়মের অ্যাকশন দৃশ্য, যেখানে কিছুই না করে দুষ্কৃতীর দলকে একাই ধরাশায়ী করে দেন তিনি শুধুমাত্র চোখের ইশারায়! গল্পের মোড় ঘুরে যায় দ্বিতীয়ার্ধে। মূর্তি পাচার চক্রের মূল পান্ডাদের মুখোমুখি হয়ে স্বরূপে আবির্ভূত হতে হয় টাইগারকে। অতএব সংঘাত অনিবার্য।
ছবির দ্বিতীয়ার্ধ ঘটনার ঘনঘটায় ঠাসা। যেহেতু কাহিনির আগাগোড়াই লার্জার দ্যান লাইফ, তাই যুক্তি না খোঁজাই ভালো। প্রায় তিন ঘণ্টার ছবি, অজস্র চরিত্র। কিন্তু ঘটনাপ্রবাহে কোনও চরিত্রের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়নি। মধ্যরাত পেরিয়ে হলে বসে একটিও দর্শককে হাই তোলা দূর, আড়মোড়া ভাঙতেও দেখা গেল না। বরং শুরু থেকে শেষ তুমুল হইহই, সিটি আর উল্লাসে ভরে রইল প্রেক্ষাগৃহ। নমো নারায়ণ ও যোগী বাবুর দৃশ্যগুলি প্রেক্ষাগৃহে কমেডির ফোয়ারা ছুটিয়েছে।

অনেকগুলো ক্যামিও চরিত্রের মধ্যে নরসিমহা রূপে শিবা রাজকুমার দুর্দান্তভাবে সামনে এসেছেন। মোহনলালকে আরও কিছুটা রাখা যেতে পারত। জ্যাকি শ্রফকে রাখার কারণ বোঝা গেল না। বিশেষ দৃশ্যে হৃতিক রোশনের আবির্ভাব প্রেক্ষাগৃহে ঝড় তুললেও চরিত্রটিকে দিয়ে খুব কিছু করানো হল না। অনিরুদ্ধের আবহ বরাবরের মতোই চমৎকার। গানগুলিও তাৎক্ষণিকভাবে শুনতে ভালো লাগে। বয়স দিয়ে রজনীকান্তের মতো মহাতারকার বিচার চলে না।
তবু ৭৫-এ এসেও যখন একইরকম স্ক্রিন প্রেজেন্স ও শরীরী ভাষা তিনি ধরে রাখেন, তখন আশ্চর্য হতে হয়! কাহিনির একদিকে মহাতারকা থাকলে অন্য প্রান্তে রয়েছেন মহাগুরু, বাঙালির প্রাণের মিঠুন চক্রবর্তী। বয়সের কারণে তাঁর চরিত্রকে হুইলচেয়ারে আটকে রাখা হলেও দৃষ্টি দিয়ে চক্রি কল্পকের চরিত্রকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। বোধির চরিত্রে এস জে সুরিয়া বেশ ভালো। তবে কান্তার চরিত্রে বিদ্যা বালানকে আর একটু ব্যবহার করা যেত।
চরিত্রটিকে একমাত্রিক করে রাখা হল। পরবর্তী পর্বে তিনি থাকবেন আশা করা যায়। দিলীপ চরিত্রে সুরজ ভেঞ্জারমডু দুর্দান্ত। শেষ মুহূর্তে বিজয় সেতুপতির ক্যামিও আগামী পর্বের জন্য আগ্রহ বাড়িয়ে তুলল। সবদিক দিয়ে দর্শকের চাহিদা পূরণ করলেও প্রথম ভাগের মতো মানসিক টানাপোড়েন এই ছবিতে নেই। পিতা পুত্রের দ্বন্দ্ব আগের পর্বের মূল আকর্ষণ ছিল।

এবারে আসল সত্য জানার পর বিজয়া ও শ্বেতার প্রতিক্রিয়া অত তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া বেশ অবাক করেছে। এই একটি ত্রুটি ছাড়া বাকিটা রজনীকান্তের এন্ট্রি সিনের মতোই জমজমাট আর পয়সা উশুল যা উৎসবের দিনে দর্শককে হলমুখী করবেই। ইতিমধ্যে ভারতে ছবিটির গ্রস কালেকশন প্রায় ৩৭৯ কোটি। আর সারা বিশ্বে গ্রস কালেকশন প্রায় ৫৮২ কোটি। শহরেও প্রেক্ষাগৃহে রমরম করে চলছে।
