ফরিদপুরের ভাঙ্গায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজের বিল নিয়ে বিরোধের জেরে সাবেক পৌর বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান পান্না ও মূল ঠিকাদার সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাওনা টাকা ফেরত ও নির্মাণকাজের সম্পূর্ণ হিসাব দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার মো. রাহাত হাসানের পক্ষে এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে ভাঙ্গা উপজেলার পূর্বসদরদী টিএসসি কলেজের সামনে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় এবং পাওনা টাকা ফেরতের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী ঠিকাদার রাহাত হাসান মিয়া অভিযোগ করেন, পূর্বসদরদী পলিটেকনিক্যাল কলেজের নির্মাণকাজটি ফরিদপুরের আলাউদ্দিন ট্রেডিং কোম্পানির স্বত্বাধিকারী সিদ্দিকুর রহমান পান। পরে স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে সাব-ঠিকাদার হিসেবে তাকে কাজটি দেওয়া হয়। নির্মাণকাজটির চুক্তিমূল্য ছিল প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
রাহাতের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মিজানুর রহমান পান্না বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করে ওই নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে মূল ঠিকাদার সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাকে না জানিয়ে একাধিক বিলের টাকা উত্তোলন করা হয়। এতে তার প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সব মিলিয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে তার পাওনা প্রায় ৩ কোটি টাকা বলে জানান তিনি।
রাহাত হাসান আরও বলেন, নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে তিনি নগদ অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন দোকান থেকে বাকিতে নির্মাণসামগ্রী সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু কাজের বিলের টাকা না পাওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছেন। পাওনা টাকা চাইতে গেলে তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ অবস্থায় নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্মাণকাজের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ এবং পাওনা টাকা ফেরত পেতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে মিজানুর রহমান পান্নার দীর্ঘদিনের সহযোগী হিসেবে পরিচয় দেওয়া কামরুল ইসলাম দাবি করেন, তার কাছ থেকেও পান্না চার লাখ টাকা নিয়েছেন। রাহাত, সিদ্দিকুর রহমান ও পান্নার মধ্যকার লেনদেনের বিষয়ে তিনি প্রায় ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকার পাওনার কথা উল্লেখ করেন।
এ সময় আশা তানিয়া নামে এক নারী বলেন, অর্থসংক্রান্ত বিরোধের কারণে রাহাতের পরিবার চরম সংকটে পড়েছে। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানান।
অন্যদিকে, সাবেক পৌর বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান পান্না তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ভাঙ্গা উপজেলার চাড়ালদিয়া গ্রামের হাবিব মেম্বার বাদী হয়ে রাহাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন এবং সেই মামলায় রাহাত একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তিনি কার ইন্ধনে মানববন্ধন করছেন, তা তার জানা নেই। রাহাতের করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেও দাবি করেন মিজানুর রহমান পান্না।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা নির্মাণকাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ, পাওনা অর্থ ফেরত এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানান।
তবে এ বিষয়ে মূল ঠিকাদার সিদ্দিকুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
