ইসরায়েলের নতুন নির্দেশনা মেনে চলার কথা নিশ্চিত করেছে ফরাসি বিমানসংস্থা এয়ার ফ্রান্স। নির্দেশনা অনুযায়ী, ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, এমন দেশের নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা পাইলট ও কেবিন ক্রুরা ইসরায়েলের আকাশসীমায় ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবেন না।
তবে জাতীয়তার ভিত্তিতে কর্মীদের ওপর এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা ফরাসি বৈষম্যবিরোধী শ্রম আইনের লঙ্ঘন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
ফলে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণের অধিকার মানতে গিয়ে এয়ার ফ্রান্স নিজ দেশের আইনের মুখে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
আরও পড়ুন
ইসরায়েলি গণমাধ্যম ও ফরাসি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম মিডিয়াপার্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিধিনিষেধের আওতায় আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, বাংলাদেশ, ব্রুনাই, কমোরোস, কিউবা, জিবুতি, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, ইরাক, কুয়েত, লেবানন, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মালি, মৌরিতানিয়া, নাইজার, উত্তর কোরিয়া, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সোমালিয়া, সুদান, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, ভেনেজুয়েলা ও ইয়েমেন রয়েছে।
এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মীদের নতুন নিয়ম সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে এবং যেসব দেশে তারা ফ্লাইট পরিচালনা করে, সেসব দেশের কর্তৃপক্ষের প্রবেশসংক্রান্ত বিধিনিষেধ মেনে চলা তাদের দায়িত্ব।
আরও পড়ুন
চেক প্রজাতন্ত্রের বিমান সংস্থা স্মার্টউইংসও নির্দেশনাটি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। তবে তারা জানিয়েছে, আপাতত তাদের কার্যক্রম বা ক্রু ব্যবস্থাপনায় এর কোনো প্রভাব পড়েনি।
অন্যদিকে, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
বৈষম্যের অভিযোগ ও আইনি ঝুঁকি
প্যারিসভিত্তিক আইনজীবী ক্লারা গান্ডিনের মতে, জাতীয়তার ভিত্তিতে কর্মীদের ফ্লাইট থেকে সরিয়ে দেওয়া ফরাসি শ্রম আইনের পরিপন্থি হতে পারে।
তার দাবি, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা বৈষম্যমূলক এবং এর ফলে এয়ার ফ্রান্স আইনি জটিলতায় পড়তে পারে।
তিনি বলেন, নিরাপত্তার অজুহাতে সব কর্মীর ক্ষেত্রে একই ধরনের বিধিনিষেধ প্রয়োগ করা ন্যায্য নয়; বরং নিরাপত্তা মূল্যায়ন হওয়া উচিত ব্যক্তিভিত্তিক। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারেন এবং ট্রেড ইউনিয়নগুলোও আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।
তবে বিমান চলাচল আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্র তার আকাশসীমায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের অধিকার রাখে।
ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভিনসেন্ট কোরেইয়া বলেন, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলসংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রগুলো নির্দিষ্ট শর্তে বিদেশি ক্রুদের প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে প্রভাবের আশঙ্কা
আইনজীবী গান্ডিনের মতে, ইসরায়েলের নির্দেশনা মানার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এয়ার ফ্রান্সের ওপর ফরাসি বৈষম্যবিরোধী আইন মেনে চলার দায়িত্ব বহাল থাকে। বিকল্প হিসেবে সংস্থাটি ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করতে পারে অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্দেশনাটি চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অন্যান্য দেশও একই ধরনের বিধিনিষেধ চালু করলে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর ক্রু ব্যবস্থাপনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে পাইলটের ঘাটতির সময় জাতীয়তার ভিত্তিতে এমন বাছাই ফ্লাইট পরিচালনায় নতুন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। সূত্র: আল জাজিরা, অ্যাভিয়েশন এটুজেড
অমিয়/
