Published on
:
1 min read
চঞ্চল প্রধান, হলদিয়া
অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে, শুভশক্তির আগমনেই দুর্গার আরাধনা। আর সেই শুভ শক্তি আলোর প্রতীক, এমন ভাবনায় হলদিয়ার হাজরা মোড় মৈত্রীভূমির সর্বজনীন দুর্গাপুজোর থিম, 'আলোয় আলোয় আসছে উমা'। সত্য, মঙ্গল এবং সুন্দর প্রতিষ্ঠার জন্য উমা আসছেন মর্ত্যে। মণ্ডপের থিম ভাবনায় সেই বার্তা রয়েছে বলে জানালেন পুজোর কর্তারা।
৬০ ফুট উচ্চতার সুবিশাল মণ্ডপ নির্মাণ করছেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইলা। মণ্ডপ জুড়ে ৪০ হাজার এলইডি বাল্ব এবং এক লক্ষ মিটার লম্বা রাইস আলোর চেন ব্যবহার করা হচ্ছে। ৩০ জন সহশিল্পীর সহযোগিতায় দু'মাস ধরে এই নির্মাণকাজে ব্যস্ত শিল্পী। মণ্ডপশিল্পীর হাতে অজন্তা-ইলোরা ভাস্কর্যের আদলে ধীরে ধীরে মূর্ত হয়ে উঠছেন দুর্গা।
বিশাল এই কর্মকাণ্ডের একটা দিকে রয়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার। যেখানে দুঃস্থদের নতুন পোশাক বিতরণ থেকে রক্তদান শিবির, থ্যালাসেমিয়া রোগ নির্ণয়, চক্ষু পরীক্ষা শিবির, ট্রাফিক আইন বিষয়ে সচেতনতা শিবির, চারা বিতরণ, কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের সমবর্ধনা, বই বিতরণ ও আর্থিক সহযোগিতা প্রভৃতি কর্মসূচি।
পুজোয় নবমীর দিন ৬ হাজার মানুষকে ভোগপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন থাকছে। রয়েছে সন্ধ্যায় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কয়েক বছর ধরে শিল্পশহরের নজরকাড়া পুজোগুলির অন্যতম হয়ে উঠে এসেছে মৈত্রীভূমির পুজো।
পুজো কমিটির মুখ্য পৃষ্ঠপোষক উৎপল জানা, সভাপতি ভৃগুরাম মণ্ডল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিস কুমার হাজরা ও কৃষ্ণচন্দ্র মহাপাত্র, কার্যকরী সভাপতি হৃষিকেশ ভূঁইয়া, সহ-সভাপতি অসীম কুমার মাইতি, কালিপদ ভূঁইয়া, মুখ্য উপদেষ্টা শ্যামল মজুমদার, মুখ্য সচেতক শম্ভুনাথ সাঁতরা, অরূপ কুমার মিশ্র-সহ সকল সদস্যের নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতার ছাপ রয়েছে পুজোর সমস্ত কর্মকাণ্ডে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা এবং হলদিয়া মহকুমা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তা থেকে রাজ্য প্রশাসনের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি এ বার পুজোয় উপস্থিত থাকবেন বলে পুজোর কর্তারা জানিয়েছেন।