সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সশস্ত্র হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মধ্যে একজন শাহেদ আহম্মেদ (৩৬)। তার বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সরকারি খরচে তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শাহেদ গত চার বছর ধরে সৌদি আরবে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক মাস আগে দুই মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। তবে ছুটি শেষ হওয়ার আগেই জরুরি কাজের তাগিদে গত শুক্রবার পুনরায় সৌদি আরবে ফিরে যান।
সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর শনিবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেলে স্ত্রী কোহিনুর আক্তার কাকলীর সঙ্গে মুঠোফোনে সর্বশেষ কথা হয় শাহেদের। এরপর থেকে তার সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বারবার ফোনে চেষ্টা করেও তাকে না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। পরবর্তীতে রোববার সন্ধ্যায় সংবাদ মাধ্যমে শাহেদের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন তারা।
নিহত শাহেদের বাবা রফিকুল ইসলাম দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছেন। অন্যদিকে, তার মা ছাহেরা বেগমও প্রায় দুই মাস আগে ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবে যান। বর্তমানে দেশে শাহেদের স্ত্রী এবং তাদের দুই সন্তান রয়েছেন।
শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান বলেন, রিয়াদে নিহত ব্যক্তির বাড়ি মাদলা গ্রামে হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। শাহেদের মরদেহ সরকারি খরচে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট একটি মিশন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
