দলের দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে জেলবন্দি করার প্রতিবাদে ‘তেরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি। সেই উপলক্ষে আবারও দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা। এতদিন পর্যন্ত দিল্লিজুড়ে মোতায়েন ছিল ২৬ হাজার বাহিনী। শুক্রবার ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচি উপলক্ষে আরও ৬ হাজার বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখছেন গোয়েন্দারা। তাঁকেও পাঠানো হতে পারে জেলে।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ হলে গোটা দিল্লি অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে, পথের ধারে দোকানিদের ব্যবসা লাটে উঠবে। উৎসবের মরশুমে এমনটা হলে প্রবল সমস্যা হবে। এই মর্মে দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন অনিল কুমার গুপ্তা নামে এক ব্যক্তি। তাঁর দাবি ছিল, ককরোচদের প্রতিবাদ কর্মসূচি বাতিল করুক আদালত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দিল্লি হাই কোর্ট জানিয়েছে, প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে সকলের তাই কর্মসূচি বাতিল হবে না। ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দিল্লি পুলিশকে।
তারপরেই ব্যাপক কড়াকড়ি পুলিশের। কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সাধারণ জনগণের কাছে এই জমায়েতে অংশ না নেওয়ার আবেদন জানানোর পাশাপাশি জানিয়েছে, কনট প্লেস ও তার সংলগ্ন এলাকায় ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’-র ১৬৩ ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। আইন লঙ্ঘন করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সর্বোচ্চ ১১ জনকে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। একইসঙ্গে বাড়তি ৬ হাজার পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সবমিলিয়ে শুক্রবার মোট ৩২ হাজার বাহিনী থাকছে রাজধানীতে।
এহেন পরিস্থিতিতে অভিজিৎ জানিয়েছেন, নম্বরবিহীন গাড়িতে চেপে তাঁর উপর নজরদারি চালাচ্ছেন আইবি আধিকারিকরা। এমনকী তাঁর বাড়িও চোখে চোখে রাখা হচ্ছে। তবু দীপকের হুঙ্কার, শুক্রবার তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে তেরঙ্গা ওড়াবেন। সেটার জন্য যদি জেলেও যেতে হয় তাহলে তৈরি আছেন বলেও জানিয়েছেন দীপকে। এই প্রতিবাদ যেন স্রেফ দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন। জানিয়েছেন, যাঁরা দিল্লিতে প্রতিবাদ করতে যেতে পারবেন না তাঁরা যেন নিজেদের শহরেও একইভাবে প্রতিবাদ করেন।
