প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর ঘিরে নগরজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি।
এর আগে ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এ সফরে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা, তিন রুটে সরাসরি ট্রেন চালু, বিমানবন্দরে কার্গো বিমান চলাচল, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন দাবি তুলে ধরতে চান রাজশাহীবাসী।
সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে সামরিক বাহিনীর বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুরের ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুরে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। বিকেল ৩টায় মাদ্রাসা মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি। জনসভা শেষে চট্টগ্রামে গিয়ে জে এম সেন হল রহমতগঞ্জ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে রাতে ঢাকায় ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অন্যতম দাবি থাকবে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা। পাশাপাশি রাজশাহী-কলকাতা, রাজশাহী-ঢাকা ও রাজশাহী-চট্টগ্রাম রুটে সরাসরি তিনটি ট্রেন চালু এবং রাজশাহী বিমানবন্দরে কার্গো বিমান চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হবে।
সোমবার সফরের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী এসব দাবি সম্পর্কে অবগত আছেন। তিনি নিজেই এ বিষয়ে বক্তব্য দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
যোগাযোগব্যবস্থার পাশাপাশি রাজশাহীর কৃষি ও শিল্প খাতের উন্নয়নেও একগুচ্ছ দাবি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বীজ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন এবং আখচাষিদের জন্য প্রণোদনা দেওয়া।
এ ছাড়া রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা, পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং রাজশাহী নগরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষা নগরী’ ঘোষণার দাবি জানানো হবে। শিল্পমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে রাজশাহীর উন্নয়নসংক্রান্ত এসব দাবি তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে নেতাদের।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী আখচাষিদের জন্য প্রণোদনা দেবেন। পাশাপাশি রাজশাহীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির দাবিও তাঁর কাছে জানানো হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে রাজশাহী নগরীতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে দিনরাত সড়ক সংস্কার, সড়ক বিভাজকে রং করা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। জনসভার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে মঞ্চ।
সোমবার মাদ্রাসা মাঠ পরিদর্শন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশাসহ দলীয় নেতারা।
এ সময় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম ও জেলার পুলিশ সুপার মামুন-অর-রশিদ উপস্থিত ছিলেন। তারা সফরের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিমান অবতরণের স্থান, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের চলাচলের পথ, ধর্মসভা মন্দির, সার্কিট হাউস ও জনসভাস্থলে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় ৪০০টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। যানজট নিরসনে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হয়েছে।
