শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) ১০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করেছে। ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ৫৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন বিজিবি সদস্যরা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে বিরামপুর বারোয়ারী কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী হরি মন্দির, পুরাতন বাজার এবং পূর্ব জগন্নাথপুর সার্বজনীন শ্রী দুর্গা মন্দির, নতুন বাজার পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়ন (২৯ বিজিবি) অধিনায়ক মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান, পিএসসি।
তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানের উজ্জ্বল প্রতিফলন। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যেন নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিজিবি সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ৫৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে ৫১টি এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে চারটি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থাপন করা হয়েছে নয়টি বেইজ ক্যাম্প।
গত ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া বিজিবির এ নিরাপত্তা কার্যক্রম চলবে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা সহায়তা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবেন বিজিবি সদস্যরা।
এ সময় অধিনায়ক সবাইকে গুজবে কান না দেওয়ার এবং যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো ঘটনা বা কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ, জনগণের সচেতনতা ও সহযোগিতা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা সম্ভব হবে।
শেষে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী সকলের প্রতি শারদীয় দুর্গাপূজার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
