দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি বাজারে কমতে শুরু করেছে শীতকালীন ও মৌসুমি সবজির দাম। বাজারে নতুন শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে থাকায় দুই দিনের ব্যবধানে পটোল, করলা, কাঁচামরিচসহ বেশ কয়েকটি সবজির দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। কোনো কোনো সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে চড়া দামে সবজি কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়া সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে হিলি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারের বিভিন্ন দোকানে শীতকালীন সবজির পাশাপাশি মৌসুমি সবজিও বিক্রি হচ্ছে। নতুন সবজির সরবরাহ বাড়ায় আগের তুলনায় দাম কমেছে অধিকাংশ সবজির। বিশেষ করে পটোল, করলা ও কাঁচামরিচের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। পাশাপাশি মূলা, বেগুন, শিম, ফুলকপি ও বাঁধাকপির দামও কমেছে। ফলে আগের তুলনায় কম খরচে প্রয়োজনীয় সবজি কিনতে পারছেন ক্রেতারা।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দুই দিন আগেও যে পটোলের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৪০ টাকা, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। করলা ৮০ টাকা থেকে কমে ৪০ টাকা, মূলা ৫০ টাকা থেকে কমে ৩০ টাকা এবং বেগুন ৬০ টাকা থেকে কমে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া শিমের দাম ১৫০ টাকা থেকে কমে ১০০ টাকা, ফুলকপি ৮০ টাকা থেকে কমে ৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৭০ টাকা থেকে কমে ৪০ টাকায় নেমেছে।
অন্যদিকে, বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং পেঁয়াজ ৪০ টাকায়। কাঁচামরিচের দামও কেজিপ্রতি ১০০ টাকা থেকে কমে ৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে অধিকাংশ সবজির দাম কমে আসায় বাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য প্রতিদিনের বাজার খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে সবজির দাম কমে আসায় কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন ক্রেতারা।
বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা খোকন ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগেও বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম অনেক বেশি ছিল। অল্প কিছু সবজি কিনতেই বেশ টাকা খরচ করতে হতো। এতে সংসারের অন্যান্য খরচ সামলাতে সমস্যা হচ্ছিল। আজ বাজারে এসে দেখছি, আগের তুলনায় অনেক সবজির দাম কমেছে। বিশেষ করে পটোল ও করলার দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি হয়েছে। দাম এভাবে কম থাকলে পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী সবজি কেনা সহজ হবে।
আরেক ক্রেতা রাইহান হোসেন বলেন, আমরা যারা সীমিত আয়ে সংসার চালাই, তাদের প্রতিটি টাকার হিসাব করে চলতে হয়। চাল, ডাল, তেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচের পাশাপাশি সবজি কিনতেও অনেক টাকা ব্যয় করতে হচ্ছিল। আগে যে টাকা দিয়ে কয়েক ধরনের সবজি কেনা যেত, এখন সেই টাকায় তুলনামূলক কম কেনাকাটা করতে হতো। এখন দাম কিছুটা কমেছে। বাজারে সবজির দাম আরও কমলে সাধারণ মানুষের জন্য অনেক সুবিধা হবে।
হিলি বাজারের সবজি ব্যবসায়ী তারেক বলেন, গত দুই দিন ধরে বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির দাম কমেছে। শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করেছে। পাশাপাশি বাজারে সবজির সরবরাহও আগের তুলনায় বেড়েছে। সরবরাহ বাড়ার কারণে পাইকারি বাজার থেকে তুলনামূলক কম দামে সবজি কেনা যাচ্ছে। সে অনুযায়ী খুচরা বাজারেও দাম কমেছে। বিশেষ করে পটোল, করলা ও কাঁচামরিচের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
তিনি আরও বলেন, বাজারে সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সবজির দাম অনেকটাই নির্ভর করে বাজারে পণ্য আসার পরিমাণ ও ক্রেতাদের চাহিদার ওপর। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে ক্রেতারা আরও কম দামে সবজি কিনতে পারবেন বলে আশা করছি।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, শীতকালীন সবজির মৌসুম শুরু হওয়ায় ধীরে ধীরে বাজারে নতুন সবজির সরবরাহ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে খুচরা বাজারে। সরবরাহ বাড়ার এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে সবজির দাম আরও কমতে পারে। তবে আবহাওয়া, উৎপাদন, পরিবহন ব্যয়, সরবরাহ ও চাহিদার ওপর বাজারদর নির্ভর করবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, বাজারে সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে সংসার চালাতে পারবেন।
সব মিলিয়ে, হিলি বাজারে শীতকালীন সবজির আগমনে দাম কমতে শুরু করায় ক্রেতাদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে। তবে এই স্বস্তি ধরে রাখতে আগামী দিনগুলোতেও সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারদর স্থিতিশীল থাকা জরুরি বলে মনে করছেন ক্রেতারা।
