পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ৫ বছরের মুনাফা ও লভ্যাংশের হালচাল
শহীদুল ইসলাম, দেশ প্রতিক্ষণ, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের কোম্পানি পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসি গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন মুনাফা করলেও চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ৪৩ কোটি টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল প্রায় ৩১ কোটি টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটির নিট মুনাফা বেড়েছে ২৮ শতাংশ। কোম্পানিটির ২০২৬ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তবে গত পাঁচ বছরের মধ্যে কোম্পানিটি ২০২১ সালে সব্বোর্চ মুনাফা করলেও ২০২৫ সালে সর্বনিম্ন মুনাফা করছে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের নিট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ১৩১ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১২৬ কোটি টাকা।
আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ৪ টাকা ১৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ টাকা। তবে চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি মুনাফা হয়েছে ১ টাকা ১৯ পয়সা। গত বছর একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ৯০ পয়সা মুনাফা হয়েছিলো। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা ২৮ পয়সায়।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৫৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ৭৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ৯৭ পয়সায়।
২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৭৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ৯৭ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৪ টাকা ৬৫ পয়সায়।
২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ২০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৪৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ৮০ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৩ টাকা ৬২ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত)।
২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ৯৩ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৪ টাকা ৬৫ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত)।
২০২১ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৭ টাকা ৬২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৪ টাকা ২৩ পয়সায় (পুনর্মূল্যায়িত)।
২০০১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১০২ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩১৯ কোটি ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১০ কোটি ২৬ লাখ ৯১ হাজার ৪৯১।
এর ৩৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৮ দশমিক ২৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৩১ দশমিক ৭৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।


