পঞ্চগড়-বোদা জাতীয় মহাসড়কের সাড়ে ১০ কিলোমিটার অংশ সংস্কারে ব্যয় হয়েছে ২১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই সড়কটির বিভিন্ন স্থানে উঠে গেছে পিচের আস্তরণ, বেরিয়ে এসেছে পাথর, সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও।
পঞ্চগড় জেলা শহরের ধাক্কামারা থেকে বোদা উপজেলার ভাসাইনগর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। কোথাও সড়কের পিচ উঠে গেছে, কোথাও পাথর বেরিয়ে এসেছে। আবার কিছু স্থানে সড়ক ফুলে উঠে তৈরি হয়েছে গর্ত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও সংস্কারকাজে অনিয়মের কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে টেকসই মেরামতের বদলে নামমাত্র বিটুমিন ও পাথর ব্যবহার করে জোড়াতালি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের। ফলে মেরামতের কিছুদিন পরই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে সড়কটি।
এতে বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। বিশেষ করে খানাখন্দে পড়ে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা করছেন চালকেরা। বিপাকে পড়ছেন নিয়মিত এই সড়ক ব্যবহারকারী যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী এলাকার বাসিন্দা মতিয়ার রহমান মতিন বলেন, কয়েক মাস আগেই সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু এখন বিভিন্ন স্থানে ফেটে সড়ক ফুলে উঠেছে, কোথাও পাথর বেরিয়ে গেছে। এতে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ছে।
মোটরসাইকেলচালক আশরাফ আলী বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। কিন্তু সংস্কারের নামে নামমাত্র কাজ করা হচ্ছে। সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরও সড়কের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। এতে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়ছেন সড়ক ব্যবহারকারীরা। তিনি সড়কটির টেকসই সংস্কারের দাবি জানান।
সড়কটির কাজের মান ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরাও।
পঞ্চগড়ের সচেতন নাগরিক মেহেদী হাসান খান বাবলা বলেন, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংস্কারকাজের গুণগত মান যাচাই করা জরুরি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো টেকসইভাবে মেরামত করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে চলাচল নিরাপদ রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
তবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পঞ্চগড় কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোতাহার হোসেন বলেন, সড়কটি নিয়মিত সংস্কার করা হচ্ছে। তার দাবি, অতিরিক্ত পণ্যবোঝাই ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সওজ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ধাক্কামারা থেকে ভাসাইনগর পর্যন্ত সাড়ে ১০ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শেষ হয়। এ কাজে ব্যয় ধরা হয় ২১ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
তবে সংস্কারের অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, শুধু সাময়িক মেরামত নয়, সড়কটির স্থায়ী ও টেকসই সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।
