‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বানোয়াট’, সংবাদ সম্মেলনে আবুল কাশেম
যশোরের বেনাপোলের উত্তর কাগজপুকুর এলাকার সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট ব্যবসায়ী ও বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম তাঁর বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, জমি দখল, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লিখিত বক্তব্যে আবুল কাশেম বলেন, গত ২০ অক্টোবর হযরত আলী প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর দল ও পদ-পদবি উল্লেখ করে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। সেখানে গত ৬ সেপ্টেম্বর পিস্তল, রামদা, বার্মিজ চাকুসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা, মারধর, ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন। জমিসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে আবুল কাশেম বলেন,বেনাপোলের উত্তর কাগজপুকুর এলাকায় সরকারি খাসজমির প্রায় হাফ শতক নিয়ে জালাল উদ্দীন ও মোখলেছুর রহমানের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আগে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে দুই পক্ষ থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে জালাল উদ্দীনের স্ত্রী নার্গিস বেগম গোয়ালঘর নির্মাণের জন্য শ্রমিক নিয়ে এসে কলাম স্থাপনের উদ্দেশ্যে মাটি খনন শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হযরত আলী আদালতে মামলা করেন। মামলায় শিক্ষার্থী, বন্দরশ্রমিক, দিনমজুর ও ব্যবসায়ীদের আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আবুল কাশেমের ভাষ্য অনুযায়ী, জমিসংক্রান্ত বিরোধের ঘটনাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে। পাশাপাশি বেনাপোল পোর্ট থানায়ও এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। জমিটি সরকারি খাসজমি হওয়ায় এটি নিয়ে তাঁর বা হযরত আলীর ব্যক্তিগত মালিকানার দাবি নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আবুল কাশেম বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় একটি মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, তাঁরা জাতির বিবেক। তাই কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে ঘটনার প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আবুল কাশেমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান খোকন, কাগজপুকুর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, বেনাপোল ইউনিয়ন বিএনপির সহ-যুববিষয়ক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, বেনাপোল ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য জুলফিকার আলী জুলু ও আকতার আলী এবং বেনাপোল পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আরিফ। এ ছাড়া মোখলেসুর রহমান ও নাজমুল হোসেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

তারাকান্দা হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
কোন পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার(২৪অক্টোবর) সকাল ১০টায় তারাকান্দা হাসপাতালে পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এবং হাসপাতালে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও অবহেলা বন্ধে করা হুঁশিয়ারি দেন। পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে জরুরি বিভাগ ও বহিবিভাগ(আউটডোর) সরে জমিনে ঘুরে দেখেন এবং ইনডোর খোলার কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রোগী ও সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ও সরকারি ওষুধ সঠিকভাবে বিতরণ করা হচ্ছে কিনা তা তদারকি করেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,"সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে কোন ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। রোগীদের হাসপাতালে ভেতরের পর্যাপ্ত ওষুধ, স্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে সেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন,গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোড়গোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংখ্যা ও লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এবং কমিউনিটি ক্লিনিক বলে কোন নাম থাকবে না। আমরা ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার করবো। উপজেলা হাসপাতাল গুলোকে ১৫১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল করবো। আগামীকাল মিটিং করে এখানে ইনডোর চালু নেই, ইনডোর চালু করবো। তিনি আরো বলেন,ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৭ টি বছর কোন লোক বল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ১৭টি বছর শুধু স্বাস্থ্য খাতে লুটপাট ও চুরি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সহ দুই বছরের মাঝে উপজেলা হাসপাতাল গুলোতে ডায়ালাইসিস, ফিজিওথেরাপি সহ প্রসূতি মায়েদের জন্য ২০ সিটের বরাদ্দ করা হবে। একই সাথে চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করার করা নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন,যারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করবেন তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিদর্শনের সময় ময়মনসিংহ সিভিল সার্জন মো: ফখরুল হাসান চৌধুরী, তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রতিনিধি এবং হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্সরা উপস্থিত ছিলেন।

গাজীপুরে কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৯ ইউনিট
গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর এলাকায় একটি কারখানার গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ৯ ইউনিট কাজ করছে। শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছেন গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. সাইফুল আলম চৌধুরী। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার কারখানার ওই গুদামে হঠাৎ করেই আগুন জ্বলে ওঠে। গোডাউনে মজুদ থাকা বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ ও কাঁচামালের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়ংকর রূপ ধারণ করে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকে। আগুনের লেলিহান শিখা ও প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ায় কারখানাটির আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সাইফুল আলম চৌধুরী বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কাশিমপুর ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পরে আশপাশের ফায়ার স্টেশন থেকে আরও কয়েকটি ইউনিট যোগ দেয়। বর্তমানে মোট ৮টি ইউনিট আগুন নেভাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আগুন যাতে গোডাউন থেকে কারখানার মূল প্লান্ট বা আশপাশের অন্যান্য ভবনে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও গুরুত্ব দিয়ে ফায়ার ফাইটাররা কাজ করছেন।” তাৎক্ষণিকভাবে এই অগ্নিকাণ্ডের নির্দিষ্ট কারণ এবং এর ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের পর তদন্ত সাপেক্ষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে, বলেন তিনি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের আনুষ্ঠানিক খবর পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

শিবগঞ্জে ৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকার জাল নোটসহ গ্রেপ্তার-৩
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে যৌথ অভিযান চালিয়ে ৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকার জাল নোটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার ৬৪০ টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন, দুটি এটিএম কার্ড ও দুটি মানিব্যাগ জব্দ করা হয়। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে শিবগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্বর্ণকারপট্টি এলাকার মুকিম মার্কেটের নিচতলার একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবির সিপিএসসি, রাজশাহী এবং সিপিসি-১, চাঁপাইনবাবগঞ্জের যৌথ আভিযানিক দল এ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শিবগঞ্জ উপজেলার পার দিলালপুর গ্রামের বশির উদ্দিন (৫৬), কলাবাড়ী গ্রামের মানিক (৩৮) এবং চাঁদ শিকারী গ্রামের ইউসুফ আলী (৫০)। এসআরবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযানের সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হেফাজত থেকে ৫ লাখ ৯৩ হাজার টাকার জাল নোটসহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে উদ্ধার করা আলামতসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে তারেক রহমানের নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে: অতিরিক্ত প্রেস সচিব
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি চান, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বগুড়াও এগিয়ে যাক। বগুড়াকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা, যোগাযোগ ও শিল্পের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমন। বৃহস্পতিবার বগুড়ার উন্নয়ন, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে রুমন বলেন, বগুড়াকে কোন অবস্থানে দেখতে চান, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতা, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, “বগুড়াকে কেমন দেখতে চান, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর একটি পরিকল্পনা রয়েছে।” বাংলাদেশ প্রতিদিনের উদ্যোগে বগুড়ার মমো ইন কনভেনশন সেন্টারে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লতিফুর রহমান একরাম (লতন একরাম)। সভায় বগুড়াকে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ, শিল্প ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে বেশ কয়েকটি বড় উন্নয়ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এর মধ্যে অন্যতম বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্প। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। এই রেলসংযোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ সহজ হবে। পাশাপাশি যাত্রী পরিবহন, কৃষিপণ্য সরবরাহ এবং শিল্পপণ্যের বাজারজাতকরণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বগুড়ায় একটি মাল্টিমোডাল বিমানবন্দর নির্মাণের প্রস্তুতিও অগ্রসর পর্যায়ে রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক যোগাযোগ, যাত্রী পরিবহন ও পণ্য পরিবহনের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া করতোয়া নদীর পাশ দিয়ে চার লেনের সড়ক নির্মাণ এবং নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো চার লেন থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। যানজট নিরসন ও নগরায়ণকে গতিশীল করতে প্রাথমিক কাজের জন্য ৭০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। বগুড়া সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ১ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দের পাশাপাশি নগর অবকাঠামো উন্নয়নে পৃথক ২ হাজার কোটি টাকার একটি পরিকল্পনার কথাও সভায় তুলে ধরা হয়। তবে এসব প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ব্যয়, অনুমোদিত বরাদ্দ এবং প্রকৃত ব্যয়ের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করা জরুরি। প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়নের সময়সীমা ও অর্থ ব্যয়ের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলে উন্নয়ন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহজ হবে। বগুড়ার মাতিডালী থেকে বনানী পর্যন্ত সড়ক ৬০ ফুট প্রশস্ত করার বিষয়ে তারেক রহমানের আগের একটি উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন রুমন। তিনি বলেন, সড়ক সম্প্রসারণের ফলে দোকানপাট, বসতবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয়দের একাংশ আপত্তি জানিয়েছিলেন। রুমনের মতে, তখন জনসাধারণের আরও বেশি সহযোগিতা পাওয়া গেলে সড়কটি ৮০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারত। এতে ভবিষ্যতে যানবাহনের চাপ সামাল দেওয়া এবং নগরের সম্প্রসারণ সহজ হতো। তাঁর বক্তব্যে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সম্পত্তির অধিকার ও জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার গুরুত্ব উঠে আসে। ভবিষ্যতের উন্নয়ন প্রকল্পে জনমত গ্রহণ, স্বচ্ছ ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রুমন গত ১৭ বছরে বগুড়ার উন্নয়নের গতিও সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, এ সময়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। এ ছাড়া প্রয়াত আরাফাত রহমানের উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক মানের একটি স্টেডিয়ামের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, নির্মাণের পরও স্থাপনাটি প্রত্যাশিত সম্ভাবনা অনুযায়ী কাজে লাগানো যায়নি। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রস্তাবিত আরাফাত রহমান কোকো প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আধুনিক ক্রীড়া প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং স্থানীয় ক্রীড়াবিদদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ বাড়তে পারে। শিল্পায়নের অংশ হিসেবে একটি বিসিক শিল্পপার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। এটি বাস্তবায়িত হলে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সম্প্রসারণ এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে। বগুড়ার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ও প্রতিষ্ঠিত বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, খাদ্য সংরক্ষণ, প্যাকেজিং এবং হালকা প্রকৌশলশিল্পের বিকাশ ঘটানো সম্ভব। এ জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, দক্ষ জনবল, অর্থায়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে বহুমুখী উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি জেলার ১৩টি উপজেলায় ১৫১ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ হলে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরে যাওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে। অন্যদিকে, উপজেলায় আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে। তবে এ জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ, রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। সভায় বগুড়া পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা) এবং বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও চূড়ান্ত পর্যায়ের কাছাকাছি বলে উল্লেখ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠান গঠিত হলে পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিকল্পিত নগরায়ণে সমন্বয় বাড়তে পারে। ২০২৬ সালে বগুড়া সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ায় নগরবাসীর প্রত্যাশাও বেড়েছে। ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত নতুন সিটি করপোরেশনের কাছে সড়ক উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি, পানি সরবরাহ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বগুড়ার উন্নয়নে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রুমন ও মীর শাহে আলম। প্রস্তাবিত রেলপথ, বিমানবন্দর, ক্রীড়া কমপ্লেক্স, শিল্পপার্ক, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাস্তবায়িত হলে বগুড়ার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও বাড়তে পারে। তবে এসব উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে প্রকল্প অনুমোদন, অর্থায়ন, সময়মতো বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার ওপর। উন্নয়নের সুফল যেন শুধু শহরকেন্দ্রিক না থাকে, সে জন্য জেলার গ্রামীণ সড়ক, কৃষিপণ্যের বাজার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে। বগুড়া দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও কৃষিপ্রধান জেলা। পরিকল্পিত বিনিয়োগ, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে জেলাটিকে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, উন্নয়নের ঘোষণাগুলোকে বাস্তব অগ্রগতিতে রূপান্তর করা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তার সুফল পৌঁছে দেওয়া।

