কালবেলা · আন্তর্জাতিক
ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীরা সংকটে থাকা আইআরজিসিকে অর্থ ফেরত দিচ্ছে : যুক্তরাষ্ট্র
১৭/১০/২০২৬

নয় মাসের যুদ্ধের পর অর্থনৈতিক চাপে থাকা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কাছে অর্থ ফেরত পাঠাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর অ্যাক্সিওসের।
তিনি বলেন, আইআরজিসির আর্থিক সংকট এতটাই তীব্র হয়েছে যে, অঞ্চলজুড়ে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী নিজেদের যোদ্ধাদের বেতন দেওয়া বন্ধ রেখে সেই অর্থ আইআরজিসির কাছে পাঠাচ্ছে। অথচ আইআরজিসিও নিজেদের সেনাদের বেতন দিতে পারছে না।
ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবার শুরু হতে পারে, এমন পরিস্থিতির প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। পাশাপাশি নৌ অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই অর্থনৈতিক অবরোধ ইরান ও দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে গুরুতর সংকটে ফেলেছে। এতে ইরানি নেতৃত্বের হতাশা ও আক্রমণাত্মক মনোভাব বাড়ছে বলেও তাদের ধারণা। ওয়াশিংটন আশা করছে, এই চাপের মুখে তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দিয়ে একটি চুক্তিতে রাজি হবে। তবে এখন পর্যন্ত তেমন অগ্রগতি হয়নি।
শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় কুপার বলেন, মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি থেকে ২৫০০ কোটি ডলারের রাজস্ব হারিয়েছে দেশটি।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সেন্টকম ও মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ইরানের ৩৫ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে বলেও জানান তিনি।
কুপার বলেন, আইআরজিসি দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহ, হামাস ও ইরাকের শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করে আসছে। কিন্তু এখন সেই গোষ্ঠীগুলোকেই আইআরজিসির কাছে অর্থ ফেরত দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনীর আর্থিক সংকট এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে যে, অঞ্চলজুড়ে ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিজেদের যোদ্ধাদের বেতন আটকে রেখে সেই অর্থ আইআরজিসির কাছে পাঠাচ্ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। অথচ আইআরজিসিও তাদের সেনাদের বেতন দিচ্ছে না।
কুপারের দাবি, ইরান সরকার সরকারি খাতের কর্মীদের বেতন, পেনশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আটকে রেখেছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী ও আইআরজিসির সদস্যরাও রয়েছেন।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের ওপর ইরানের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার পেছনে আইআরজিসির হতাশা কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন কুপার।
তবে এসব হামলার পরও হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তার তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে এই প্রণালি দিয়ে ৪০০টি জাহাজ চলাচল করেছে এবং পরিবহন হয়েছে ১০ কোটি ব্যারেল তেল।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রণালির আশপাশে ইরানের জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও হামলাকারী ড্রোন উৎক্ষেপণব্যবস্থায় মার্কিন হামলা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধের উত্তেজনা না বাড়াতে হোয়াইট হাউস হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এতে ইরান আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে জাহাজে হামলা চালাচ্ছে।
সেন্টকমের উদ্বেগ, জাহাজে হামলা বাড়তে থাকলে নৌপরিবহন কোম্পানিগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের বিষয়ে নতুন করে ভাবতে পারে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়াতে এবং তেলের দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যেও ইরান জাহাজে হামলা বাড়াচ্ছে।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে হোয়াইট হাউস ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি এখনো তেহরানে অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে
সরাসরি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা না করে এখনই জবাব দেওয়া উচিত।
মধ্যস্থতাকারীরা আরও সতর্ক করেছেন, নির্বাচনের পর ট্রাম্পের অবস্থান আরও নমনীয় হবে; এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং তিনি আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারেন বলে তাদের আশঙ্কা।
সূত্র : অ্যাক্সিওস
মূল প্রতিবেদনে যান ↗