পঞ্চগড় প্রতিনিধি
মেঘমুক্ত নীল আকাশে বরফঢাকা পর্বতচূড়ায় সূর্যের সোনালি আভা। যেন দেবদূতের আশীর্বাদ ঝরে পড়ছে! পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় হিমালয়ের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার এই রূপে আবেগে উদ্বেল হৃদয়, বিহ্বল হাজারো মুগ্ধ চোখ। এই অপার্থিব সৌন্দর্যকে হৃদয়ে ধারণ করতেই বছরের এই সময়টিতে দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা ভিড় করেন তেঁতুলিয়ায়।
ভোরের হালকা কুয়াশা সরে গেলে দিগন্তজুড়ে দৃশ্যমান হয়ে ওঠে বরফঢাকা পর্বতশৃঙ্গটি। সূর্যের আলোয় কখনো শুভ্র সাদা, কখনো সোনালি আভায় ধরা দেয় পাহাড়ের চূড়া। দৃশ্যটি ক্যামেরা ও মুঠোফোনে ধারণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন পর্যটকেরা।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন বলেন, কাঞ্চনজঙ্ঘাকে ঘিরে পঞ্চগড়ে পর্যটকদের আগমন বাড়ছে। পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন কাজ করছে।

কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসা পর্যটক শামীম ইসলাম বলেন, ‘পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার এমন সুন্দর দৃশ্য দেখে খুব ভালো লাগছে। পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যের আলো পড়ার দৃশ্য সত্যিই অসাধারণ। প্রকৃতির এত সুন্দর দৃশ্য কাছ থেকে উপভোগ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।’
আরেক পর্যটক আরিফা আক্তার বলেন, ‘অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার। এবার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। পাহাড়ের পাশাপাশি এখানকার হালকা শীত, সকালের কুয়াশা ও চা-বাগানের সৌন্দর্যও আমাদের মুগ্ধ করেছে।’
কাঞ্চনজঙ্ঘার পাশাপাশি পঞ্চগড় থেকে ভারতের আরও কয়েকটি পাহাড়ও দেখা যাচ্ছে। সমতলের বিস্তীর্ণ চা-বাগান, মহানন্দা নদীর তীর ও সীমান্তঘেঁষা প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করছে।
আকাশ পরিষ্কার ও মেঘমুক্ত থাকলে দূর থেকে দৃশ্যমান হয় বরফঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা। প্রতিবছর অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে পঞ্চগড়ের আকাশে পর্বতশৃঙ্গটি দেখা যেতে শুরু করে। শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে এই দৃশ্য উপভোগে পর্যটকদের আগ্রহও বাড়ে।

