Published on
:
2 min read
শুভাশিস সৈয়দ
দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন ইকবাল। দিনের প্রায় গোটা সময় কাটত পুকুরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বেলডাঙার ওই কিশোরের খবর ভাইরাল হওয়ার পরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় মুম্বই থেকে। খোদ অনন্ত আম্বানি ইকবালের স্বাস্থ্যের বিষয়ে জেনে তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছিলেন। মুম্বইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে, সঙ্গে গিয়েছিলেন তাঁর মা। সেখান থেকে ফিরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি, এমনটাই জানাচ্ছে পরিবার।
মুম্বইয়ে টানা ৩৫ দিনের চিকিৎসা করানোর পরে বাড়ি ফিরে সুস্থ ছিলেন মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বাসিন্দা ১৮ বছরের ইকবাল হোসেন। গত দুই দিন ধরে তিনি ফের অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। ইকবালের মা কামিরন বিবি বলেন, ‘ছেলে আমার ভাল ছিল। কিন্তু গত দু’দিন ধরে ফের অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সারা শরীরে ব্যথা হচ্ছে। আগের তুলনায় শরীর ফুলেছে। সেই সঙ্গে ব্যথা শুরু হয়েছে। ব্যথার কারণে দিনরাত ছটফট করছে।’ ফলে ইকবালকে নিয়ে ফের চিন্তা শুরু হয়েছে পরিবারের। ইকবাল বলছেন, ‘শরীর ফুলে গিয়েছে, কষ্ট হচ্ছে। এমন হলে তো আমি বাঁচব না।’
পরিবার জানাচ্ছে, মুম্বইয়ের হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছিল ইকবালকে প্রতি সপ্তাহে একটি করে ইঞ্জেকশন দিতে হবে। সেই মতো বৃহস্পতিবার বহরমপুর পঞ্চাননতলা এলাকা লাগোয়া এক বেসরকারি হাসপাতালে ইকবালকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন মা কামিরন বিবি। তিনি বলেন, ‘প্রথম দিকে বেলডাঙার বাড়িতে এসে চিকিৎসক ইঞ্জেকশন দিতেন। এখন ছেলেকে নিয়ে এসে ইঞ্জেকশন করাতে হয়। এ জন্য যাতায়াতের গাড়ি ভাড়া কোম্পানি দিয়ে দেয়।’
বছর পাঁচেক আগে থেকেই ইকবাল এলাকার বিভিন্ন পুকুরে জলে ভেসে সময় কাটাতেন। অনেকে তাঁকে ‘জলমানব’ বলে থাকেন। ১৩ অগস্ট মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থানার বড়ুয়া ফরাজিপাড়ায় ইকবালের গ্রামের বাড়িতে হাজির হয়েছিল রিলায়েন্সের একটি টিম। তার দু’দিন পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স করে ইকবালকে মুম্বইয়ে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পরে গত ১৮ সেপ্টেম্বর ইকবালকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। মুম্বইয়ের হাসপাতালের চিকিৎসায় খুশি ছিলেন পরিবারের লোকজন। অনেকটা সুস্থও হয়েছিলেন তিনি, এমনটাও বলেছিল পরিবার।