টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা থেকে মগড়া পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন আশপাশের প্রায় ৩০টি গ্রামের লাখো মানুষ। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রী, চালক, শিক্ষার্থী ও রোগীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলেঙ্গা-মগড়া সড়কটি পটল, দুর্গাপুর, চরহামজানী, মীরহামজানী, সল্লা, আয়নাপুর ও যোগারচরসহ আশপাশের প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না করায় বিভিন্ন স্থানে উঠে গেছে পিচঢালাই। তৈরি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে।
১০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে লাগছে দেড় ঘণ্টা
সড়কটির বেহাল দশার কারণে স্বাভাবিক সময়ে যে পথ অতিক্রম করতে ১০ মিনিট লাগার কথা, সেখানে এখন সময় লাগছে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। খানাখন্দ এড়িয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চালাতে গিয়ে প্রতিদিনই সময় নষ্ট হচ্ছে যাত্রীদের। পাশাপাশি গর্তে পড়ে প্রায়ই বিকল হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন। এতে বাড়ছে মেরামত খরচ এবং ভোগান্তিতে পড়ছেন চালক ও যাত্রীরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত থাকায় চালকদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হয়। সামান্য অসতর্কতায় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এরই মধ্যে সড়কটি ব্যবহার করতে গিয়ে দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রোগী ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে
এলেঙ্গা-মগড়া সড়কের দুরবস্থার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে জরুরি যাতায়াতের ক্ষেত্রে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় সড়কের খানাখন্দের কারণে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। এতে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে জরুরি রোগী পরিবহনে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। এমনকি সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারায় পথে রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
অন্যদিকে, প্রতিদিন স্কুল-কলেজে যাতায়াতের সময় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকতে হয় অভিভাবকদেরও। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনেও সমস্যার মুখে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সড়কটির কারণে যাতায়াতের সময় ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
দ্রুত সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থা চললেও স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় তাঁদের দুর্ভোগ কমছে না। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
এলাকাবাসীর মতে, এলেঙ্গা-মগড়া সড়কটি আশপাশের গ্রামগুলোর যোগাযোগব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সাময়িক মেরামতের পরিবর্তে টেকসই সংস্কারের মাধ্যমে সড়কটিকে চলাচলের উপযোগী করা প্রয়োজন। দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি মানুষের সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে।
কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস এলজিইডির
সড়কটির গুরুত্বের বিষয়টি স্বীকার করেছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন। তিনি সড়কটির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করে তাঁদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে হবে। প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
The post এলেঙ্গা-মগড়া সড়কের খানাখন্দে দুর্ভোগে ৩০ গ্রামের মানুষ appeared first on SATV.
