মহাজাগতিক দৃশ্যের অন্যতম আকর্ষণ ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির চূড়ান্ত সময় আজ ২১ অক্টোবর রাত থেকে আগামীকাল ২২ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত। এ সময় পৃথিবী হ্যালির ধূমকেতুর ফেলে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের ঘন অংশের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করবে। ফলে রাতের আকাশে দেখা মিলতে পারে ঝলমলে উল্কার। আদর্শ অন্ধকার আকাশে ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্কাবৃষ্টি দেখার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় ২২ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত। তবে উজ্জ্বল চাঁদের আলো রাতের অনেকটা সময় ক্ষীণ উল্কাগুলোকে আড়াল করে রাখতে পারে। এ সময় চাঁদের প্রায় ৭৪ শতাংশ আলোকিত থাকবে। সৌভাগ্যবশত, মধ্যরাতের কয়েক ঘণ্টা পর চাঁদ অস্ত যাবে। ফলে ভোরের আগে আকাশ অন্ধকার হয়ে আসবে, যা উল্কাবৃষ্টি দেখার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে। নিজের এলাকার চাঁদ অস্ত যাওয়ার সঠিক সময় জানতে নির্ভরযোগ্য আবহাওয়া ও জ্যোতির্বিষয়ক ওয়েবসাইটের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।
কোথায় তাকালে দেখা মিলবে উল্কার
ওরিওনিড উল্কাগুলোকে ওরিয়ন নক্ষত্রমণ্ডলের লাল দানব তারা বেটেলজিউসের কাছাকাছি আকাশ থেকে ছুটে আসতে দেখা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রে ২২ অক্টোবর ভোরের দিকে এই নক্ষত্রমণ্ডলকে দক্ষিণ-পূর্ব দিগন্তের ওপরে দেখা যাবে।
তবে উল্কাবৃষ্টির সবচেয়ে ভালো দৃশ্য দেখতে উল্কার উৎসস্থল থেকে আকাশের ৪০ থেকে ৯০ ডিগ্রি দূরের দিকে তাকানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে দ্রুতগতির উল্কাগুলোর পেছনে তৈরি হওয়া আলোর রেখা তুলনামূলক দীর্ঘ দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া কৃত্রিম আলোর প্রভাব থেকে দূরে খোলা জায়গায় অবস্থান করা জরুরি। অন্ধকারের সঙ্গে চোখকে মানিয়ে নিতে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় দিতে হবে।
যেভাবে তৈরি হয় ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি
পৃথিবী প্রতিবছর হ্যালির ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের প্রবাহের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করার সময় ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টির সৃষ্টি হয়। ধূমকেতুটি ১৯৮৬ সালে সর্বশেষ পৃথিবীর কাছাকাছি সূর্যকেন্দ্রিক অঞ্চলে আসার সময় মহাকাশযানের একটি বহর দিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল।
ধূমকেতুর প্রাচীন ধূলিকণা ও অন্যান্য ক্ষুদ্র কণা ঘণ্টায় প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ মাইল, অর্থাৎ ঘণ্টায় প্রায় ২ লাখ ৩৭ হাজার ৫৩৯ কিলোমিটার বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। এ সময় বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘর্ষে কণাগুলো উত্তপ্ত হয়ে বাষ্পীভূত হয়। এর ফলে রাতের আকাশে প্রাকৃতিক আতশবাজির মতো উজ্জ্বল আলোর ঝলক দেখা যায়।
/অ
