ছবির ক্যাপশন: .
স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে নুসরাত জাহান মিম (১৪–১৫) নামে এক কিশোরী অপহরণের শিকার হয়েছে। ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবার (১৬ তারিখ) দুপুর আনুমানিক ১:৩০ থেকে ২:০০টার মধ্যে ঘটে। এ ঘটনায় পরিবার চরম উদ্বেগে রয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনার দিন মিম তার বাবা-মাকে নিয়ে দাঁতের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যান। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পরপরই একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাদের লক্ষ্য করে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের দুর্বল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে চক্রটি প্রথমে মায়ের ওপর চেতনানাশক প্রয়োগ করে, ফলে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে সহযোগিতার ভান করে এগিয়ে এসে একই কৌশলে মিম ও তার বাবাকেও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।
পুলিশের সংগ্রহ করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অপহরণকারী মিম ও তার বাবাকে একটি আইসক্রিমের দোকানে নিয়ে যায় এবং পরে তাদের নিয়ে গুলিস্তান এলাকার দিকে হেঁটে যায়। গুলিস্তান পর্যন্ত বাবা-মা মিমের সঙ্গে থাকলেও এরপর কিশোরীকে আলাদা করে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছু সময় পর বাবা-মায়ের জ্ঞান ফিরে এলে তারা মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি বুঝতে পারেন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তি একজন নেশাগ্রস্ত এবং কয়েকদিন ধরে এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। বিভিন্ন মাজার ও নেশার আড্ডাস্থলে তার যাতায়াত রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি সুসংগঠিত মানব পাচারকারী চক্রের কাজ বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ ঘটনায় পল্টন থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপহরণকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
নিখোঁজ কিশোরী নুসরাত জাহান মিমের উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ১ ইঞ্চি, গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা এবং স্বভাবে সহজ-সরল। তিনি একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
যদি কেউ কিশোরী বা সন্দেহভাজন ব্যক্তির অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন, তবে দ্রুত সংশ্লিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং নির্ভুল তথ্য প্রদানকারীকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
একটি অসহায় পরিবার তাদের সন্তানের সন্ধানে দিশেহারা। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
