Published on
:
2 min read
দুর্গাপুজো ফুরোতেই আলোর উৎসব দীপাবলির কাউন্টডাউন শুরু। কালীপুজো ও ভাইফোঁটার মাঝে ছোট্ট একটা ছুটি পেলেই মন আনচান করে ওঠে একটু দূরে কোথাও হারিয়ে যাওয়ার জন্য। চেনা শহরের কোলাহল, বাজি ও শব্দদূষণ থেকে দূরে যদি কয়েকটা দিন নিস্তব্ধ প্রকৃতির কোলে কাটাতে চান, তবে বাঁকুড়ার জয়পুর ফরেস্ট হতে পারে আপনার জন্য আদর্শ উইকএন্ড ডেস্টিনেশন। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে থাকা শাল, পিয়াল, সেগুন ও মহুয়ার ঘন জঙ্গল, মেঠো পথ আর বুনো পাখির কলতান—সব মিলিয়ে জয়পুরের অরণ্য এক কথায় অসাধারণ।
জয়পুর ফরেস্টে কী কী দেখবেন?
ঘন বনের অন্দরে রোমাঞ্চ: পিচঢালা রাস্তার দু'পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা শাল-সেগুন-পিয়াল গাছের সারি আর পাতার ফাঁক দিয়ে চুঁইয়ে পড়া রোদ আপনার মন কেড়ে নেবে।
ওয়াচ-টাওয়ার: জঙ্গলের ভিতরে থাকা ওয়াচ-টাওয়ার থেকে চারপাশের প্যানোরামিক ভিউ দারুণ। ভাগ্য ভালো থাকলে হরিণের পাল, মেছো বিড়াল, নানা প্রজাতির পাখি কিংবা হাতির দেখা মিলতে পারে। শীতের শুরুতে এখানে পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে।
হাতির করিডোর: জয়পুর জঙ্গলের মধ্যে বেশির ভাগ রাস্তাই হাতিদের চলাচলের করিডোর হিসেবে পরিচিত। তাই সন্ধ্যার পর বা ভোরে জঙ্গলপথে ঘোরার সময় স্থানীয় গাইড ও বন দফতরের নির্দেশিকা মেনে চলা আবশ্যক।
বিষ্ণুপুর: জয়পুর ফরেস্ট থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরত্বেই রয়েছে মল্লভূমের ঐতিহাসিক শহর বিষ্ণুপুর। জয়পুর ঘুরে যদি হাতে সময় থাকে তা হলে রাসমঞ্চ, জোড়বাংলা মন্দির, মদনমোহন মন্দিরের বিখ্যাত টেরাকোটার কাজ দেখে আসতে পারেন।
কীভাবে যাবেন?
ট্রেন: হাওড়া থেকে সরাসরি বাঁকুড়াগামী ট্রেন ধরে পৌঁছে যেতে পারেন বিষ্ণুপুর বা জয়পুর স্টেশন। সেখান থেকে টোটো বা অটোয় সরাসরি জয়পুর ফরেস্ট।
সড়কপথে: কলকাতা থেকে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে বর্ধমান ও আরামবাগ হয়ে খুব সহজেই গাড়ি বা বাসে পৌঁছে যাওয়া যায় জয়পুর। কলকাতা থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১৩৫-১৪০ কিলোমিটার, সময় লাগবে সাড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা।
কোথায় থাকবেন?
রাত কাটানের জন্য পশ্চিমবঙ্গের বন উন্নয়ন নিগম (WBFDC)-এর চমৎকার নেচার রিসর্ট রয়েছে জয়পুর জঙ্গলের ভিতর। তবে ছুটির দিনে ভিড় এড়াতে আগে থেকেই বুকিং করে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এ ছাড়া জঙ্গলের চারপাশে বেশ কিছু বেসরকারি কটেজ ও ইকো-রিসর্ট গড়ে উঠেছে।